default-image

ফ্রান্সের নাগরিক লুসিলা র‌্যানডন ইউরোপের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। ১১৭তম জন্মদিন উদ্‌যাপনের কয়েক দিন আগে তিনি পেলেন সুখবর। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১৯৪৪ সাল থেকে পুরোপুরি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক হিসেবে নিযুক্ত হন লুসিলা। এর সঙ্গে তাঁর নামও বদলে যায়। পরিবর্তিত নাম হয় সিস্টার আঁন্দ্রে। ১৬ জানুয়ারি লুসিলা র‌্যানডন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু এরপর তাঁর শরীরে করোনার মারাত্মক কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি, এটার (করোনা) বিরুদ্ধে জয়ী হবেন তিনি।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল তুলনের একটি অবসরোত্তর সরকারি ভবনে থাকেন লুসিলা। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অন্য বাসিন্দাদের থেকে একেবারে আইসোলেশনে চলে যান। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। বয়স বেশি হওয়ায় লুসিলা চোখে দেখেন কম। চলাফেরা করেন হুইলচেয়ারে। এরপরও তাঁর করোনা জয় সবার কাছেই বিস্ময়কর মনে হচ্ছে।

ওই অবসরোত্তর সরকারি ভবন সান্তা ক্যাথরিন লেবারের মুখপাত্র ডেভিড টাভেলা বলেছেন, তিনি (লুসিলা) খুবই সৌভাগ্যবান। এত বয়সেও তিনি করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে টাভেলা বলেন, ‘তিনি তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাকে কিছু জানাননি। কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলেন। যেমন ঘুমাতে যাওয়া ও খাবারের সময়সূচি পরিবর্তন করা যায় কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন তিনি।’

বিজ্ঞাপন

টাভেলা আরও বলেন, তিনি তাঁর রোগের বিষয়ে ততটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তবে তিনি অন্য বাসিন্দাদের বিষয়ে খুবই উদ্বেগে ছিলেন।

না, আমি ভয় পাচ্ছি না। কারণ, আমি মৃত্যুতে ভয় পাই না।
লুসিলা র‌্যানডন

করোনার বিষয়ে ভয় পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রান্সের একটি টিভি চ্যানেলকে লুসিলা বলেন, ‘না, আমি ভয় পাচ্ছি না। কারণ, আমি মৃত্যুতে ভয় পাই না।’

লুসিলার জন্ম ১৯০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। জেরন্টোলজি রিসার্চ গ্রুপের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের তালিকায় লুসিলা ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি। আর বিশ্বে তিনি দ্বিতীয়তম প্রবীণ ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার তিনি ১১৭তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করবেন। তবে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় এ উদ্‌যাপন হবে খুব ছোটখাটোভাবে এবং ঘরোয়া পরিবেশে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন