ভারতের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে নতুন নিয়োগ নীতি অগ্নিপথকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অশান্তির আগুন জ্বলেছে। রাজ্যে রাজ্যে যুব সম্প্রদায় এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে। গত কদিনে হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটেছে দেশজুড়ে।

প্রকল্প অনুযায়ী তিন বাহিনীতে স্বল্প প্রশিক্ষণের পর ৪৬ হাজার যুবককে নিযুক্তি দেওয়া হবে। চার বছর পর ওই যুবকদের থেকে এক–চতুর্থাংশকে পাকাপাকি নিয়োগ করা হবে। বাকিদের প্রায় ১২ লাখ রুপি দিয়ে বিদায় জানানো হবে। প্রতিবাদ এই নীতির বিরুদ্ধে, যেখানে কর্মহীনদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা থাকবে না। থাকবে না অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও।

এই নীতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তিনটি জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে। আবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প সংবিধানবিরোধী। সংসদে আলোচনা না করেই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বহু বছরের নিয়োগ প্রথা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এর ফলে সুশৃঙ্খল বাহিনীর মনোবল নষ্ট হবে। সারা দেশে অশান্তির আগুন জ্বলছে। অতএব কেন্দ্রকে প্রকল্পটি আরও বিবেচনা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হোক।

একটি আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করুন, যার সদস্যরা সেনাবাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই প্রকল্পের প্রভাব খতিয়ে দেখবেন। এ ছাড়া দেশজোড়া অশান্তি ও হিংসাত্মক ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এক বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আরজিও জানানো হয়।

বিচারপতি সি টি রবিকুমার ও সুধাংশু ধুলিয়ার অবসরকালীন বেঞ্চ গতকাল বলেন, আইনজীবী হর্ষ অজয় সিংয়ের আবেদনটি বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির এজলাসে পাঠানো হবে। তারপরই তা বিবেচনা করা হবে। ওই আবেদনে প্রকল্পটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ক্যাভিয়েট দাখিলের পর তাদের এখন কেন্দ্রকেও মামলাকারীদের আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।

কেন্দ্র শুরু থেকেই বলে আসছে কোনোভাবেই এই প্রকল্প স্থগিত করা হবে না। বরং তিন বাহিনীতে অগ্নিবীরদের নিযুক্তির জন্য জোর প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। তিন বাহিনীর প্রধানেরা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষার স্বার্থে এই সংস্কার জরুরি। এর ফলে বাহিনীর জওয়ানদের বয়স ৩৫ থেকে কমে ২৪-২৫–এ দাঁড়াবে। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারকে বিপুল পেনশনের বোঝাও বইতে হবে না। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও গতকাল বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই প্রকল্প পুনর্বিচারের রাস্তায় সরকার হাঁটবে না। এএনআইকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই প্রকল্প ভারতীয় সেনানীদের আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।

যুবকদের মনে প্রশ্ন, চার বছর পর বাতিল অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ কী হবে? অনিশ্চিত ভবিষ্যতে নিশ্চয়তা আনতে ইতিমধ্যে আধা সামরিক বাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, আসাম রাইফেলসসহ বিভিন্ন রাজ্য তাদের পুলিশ বাহিনীতে অগ্নিবীরদের নিযুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। দেশের নামী শিল্পপতিরাও অগ্নিবীরদের নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যুবকদের মনে আস্থা জোগানোর এই প্রচেষ্টা অগ্নিপথে নাম না লেখানো যুবকদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে বলে অনেক সাবেক সেনানী সরকারকে সতর্ক করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সবাই যদি অগ্নিবীরদের সুযোগ দিতে সচেষ্ট হন, তাহলে শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতদের বেকারত্ব দূর করার ক্ষেত্রে অন্য ধরনের সমস্যা দেখা দেবে।

অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করার ঘোষণা হয়েছিল এক সপ্তাহ আগে। টানা বিক্ষোভের পর গত সোমবার দেশজুড়ে পালিত হয় বন্‌ধ। গতকাল থেকে বিক্ষোভ বহুলাংশে স্তিমিত।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন