default-image

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলা। চলতি বছরের বইমেলা আগামী ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে এই বইমেলা ৪৬ বছরে পা দিতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ঘিরে এ বছরের কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি করা হয় বাংলাদেশকে। আর সেই লক্ষ্যে এ বছরের বইমেলার ছিল ব্যাপক আয়োজন।

সোমবার সকালে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় কলকাতা বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু শেখর দের। তাঁর কথায় উঠে এসেছে এবারের বইমেলার অনিশ্চয়তার কথা।

বিজ্ঞাপন

সুধাংশু শেখর দে বলেন, ‘আমরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এখনো করোনা আমাদের রাজ্য তথা দেশ থেকে বিদায় নেয়নি। রাজ্য সরকারও এখন বইমেলার ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি। তবে আমাদের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এ কথাও ঠিক, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ঘিরে যাতে করে কোনোভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের নির্দেশে সাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দুর্গামণ্ডপ। কেবল দূর থেকে দুর্গা দর্শনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বইমেলা তো ওইভাবে হতে পারে না।’

সুধাংশু শেখর দে বলেন, ‘মানুষ আসবে, বই দেখবে। বইয়ের কাছাকাছি আসবে। বই কিনবে। তাই বইমেলার স্টল তো আর বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তাই আমরা এখনো বইমেলা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। অপেক্ষায় আছি বইমেলা নিয়ে কী গাইডলাইন দেয় রাজ্য সরকার? আমরা আশাবাদী, সরকার এই বইমেলার জন্য একটি সমাধান বের করবে।’

গত বইমেলার উদ্বোধন হয়েছিল চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি। সেটি ছিল ৪৪তম বইমেলা। এবারেরটি ৪৫তম। গত বইমেলার থিম কান্ট্রি ছিল রাশিয়া। গত বইমেলায় যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ। বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন তৈরি হয়েছিল শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনের আদলে। ওই প্যাভিলিয়নে ঠাঁই পেয়েছিল বাংলাদেশের ৪১টি প্রকাশনা সংস্থার বই।

গত বইমেলায় কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ৬০০ প্রকাশনা সংস্থা যোগ দিয়েছিল; সেই সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ২০০টি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনা সংস্থা। আর গত বছরের বইমেলা বসেছিল সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0