অনিয়ম-অভিযোগে তোপে তৃণমূল

বিজ্ঞাপন
default-image

পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ধকল এখনো বইছে। এর সঙ্গে আছে করোনার ছোবল। রাজ্যের এই কঠিন সময়ে নানা অনিয়ম-অভিযোগে তোপে আছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

আম্পানের ত্রাণ আত্মসাতের প্রতিবাদে রাজ্যে চলছে আন্দোলন-বিক্ষোভ। বেআইনিভাবে নেওয়া আম্পানের অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই অস্থিরতার মধ্যে রাজ্যে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। মূলত, এসব কারণেই জেরবার মুখ্যমন্ত্রী মমতার দল তৃণমূল।

ক্ষুব্ধ জনগণের সঙ্গে সুর মিলিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বিজেপি, বামদল ও কংগ্রেস।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তৃণমূলের ১৮ নেতাকে শোকজ করেছে দল। জবাবে দল সন্তুষ্ট না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

একই সঙ্গে অবৈধভাবে গ্রহণ করা ত্রাণ ও অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। শাসক দলের নেতারা গতকাল সোমবার থেকে ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ঘোষণা দিয়েছেন, ত্রাণ আত্মসাৎ নিয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

তৃণমূলের এই শোকজকে আইওয়াশ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থামাতে শাসক দল নয়া কৌশল নিয়েছে।

default-image

রাজ্যের বিরোধী দল করোনা চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছে, বহু মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে না। হাসপাতালে শয্যা মিলছে না। অন্য রোগের রোগীদের হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধী দলের অভিযোগ আরও জোর পরিসংখ্যানে। গতকাল ছিল পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে দুর্দিন। এদিন রাজ্যে ৬২৪ জন সংক্রমিত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। এক দিনে সংক্রমিতের এই সংখ্যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় ১৪ জন।

রাজ্যে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৯০৭। মোট মৃত মানুষের সংখ্যা ৬৫৩।

২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে দুর্নীতি ও করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে শাসক দল চাপে পড়ে গেছে। এসব ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন