ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সঙ্গে জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দুই মাস পর ব্যাপক দর-কষাকষি শেষে গতকাল মঙ্গলবার সরকার গঠনের এই ঘোষণা আসে। খবর এনডিটিভির।
গতকাল রাজধানী নয়াদিল্লিতে পিডিপির নেত্রী মেহবুবা সাঈদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অমিত শাহ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপি ও পিডিপির জোট হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ রাজ্য বিজেপি-পিডিপির সরকার পাবে।
অমিত শাহ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পিডিপির প্রধান মুফতি মোহাম্মদ সাঈদের সঙ্গে দেখা করবেন। মুফতি সাঈদ জম্মু-কাশ্মীরের নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাজ্য সরকার কবে ক্ষমতায় বসবে তা নিয়ে মোদি ও সাঈদ সিদ্ধান্ত নেবেন। বিজেপি নতুন সরকারে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ পেতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে ভিন্ন ধারার দুটি দলের জোট সরকার ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচির (সিএমপি) মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করবে। যেসব বিষয়ে মতভিন্নতার কারণে দুটি দল কয়েক দশক ধরে পরস্পর থেকে দূরে ছিল, দুই মাস ধরে আলোচনায় সেসব বিষয়ে কিছু সমঝোতা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৮৭। গত বিধানসভা নির্বাচনে পিডিপি সর্বোচ্চ ২৮টি আসন পায়। বিজেপি পায় ২৫টি। রাজ্যটিতে বিজেপির এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ফল এটাই। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ রাজ্যে এবারই প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পাচ্ছে বিজেপি। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন কেউ না পাওয়ায় জোট সরকার গঠন ছাড়া আর উপায় ছিল না।
গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসা বিজেপি আশা করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর-জয়ের। এ জন্য তারা ‘মিশন ৪৪+’ সফল করতে উঠেপড়ে লাগে। তবে তাদের সেই মিশন সফল হয়নি। সেই সঙ্গে ভেস্তে যায় একজন হিন্দুকে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী করার স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন