হিজাব, হালাল ও আজান বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ভারতের প্রধানত বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানোর এক আন্দোলন দানা বাঁধে। গত মাসের মাঝামাঝি মহারাষ্ট্রে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে ৩ মের মধ্যে সব মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেন। এই হুমকিতে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেয় বিজেপি। আজানের বিরুদ্ধাচরণ করে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এমএনএস হনুমান চালিশা পাঠের কর্মসূচিও গ্রহণ করে। এই দাবির মুখে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ বালসে পাটিল সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ধর্মস্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে কি না, কেন্দ্রীয় সরকার আইন এনে তা ঠিক করুক। রাজ্য সরকার এটুকু নিশ্চিত করতে পারে যে কোনো ধর্মস্থানে অবৈধভাবে ও বিনা অনুমতিতে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। সর্বভারতীয় আইনসংক্রান্ত মহারাষ্ট্র সরকারের দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি।

আজান ও লাউডস্পিকার নিয়ে এই বিতর্ক দানা বাঁধার মুখে গত ২৪ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্দেশ দেন, রাজ্যের কোনো ধর্মস্থানে অবৈধ লাউডস্পিকার রাখা যাবে না। লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে আইন মেনে, নিক্ষিপ্ত আওয়াজ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। শব্দদূষণ রুখতে স্বরক্ষেপণের তীব্রতা বেঁধে দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকার ২০১৮ সালে আইন এনেছিল। বৈধ এবং অনুমতি নেওয়া লাউডস্পিকারের ‘ডেসিবল’ মাত্রা তার মধ্যে রাখার নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে। সমস্ত ধর্মস্থান কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ মানতে অনুরোধ করে রাজ্য প্রশাসন তাদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে। বহু ধর্মস্থান স্বেচ্ছায় অবৈধ লাউডস্পিকার খুলে দিয়েছে বলেও পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন।

হিজাব, হালাল ও আজান বিতর্ক নিয়ে ভারতের রাজনীতি সরগরম। এরই মধ্যে বিজেপিশাসিত রাজ্যে উচ্ছেদ হটাতে শুরু হয়েছে বুলডোজারের ব্যবহার। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধীপক্ষের তরজা চরমে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন