বিজ্ঞাপন

অভিযোগে ওই নারী সহকর্মী বলেছিলেন, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় তেহেলকার একটি অনুষ্ঠানে তরুণ তেজপাল তাঁকে ধর্ষণ করেন। ৭ ও ৮ নভেম্বর হোটেলকক্ষে তাঁকে ওই যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ তরুণের বিরুদ্ধে প্রায় তিন হাজার পাতার অভিযোগ দেয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ‘বলপূর্বক আটকে রাখা, সম্ভ্রমহানির জন্য বলপ্রয়োগ, যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণের’ অভিযোগ আনা হয়। তবে তরুণ সব সময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন।

এদিকে ৫০০ পৃষ্ঠার ওই আদেশে বিচারক শামা জোসি বলেছেন, অভিযোগের সমর্থনে জোরালো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি অভিযোগকারী নারী। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আট বছর আগের এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তদন্ত করেনি। আদালত বলেন, ‘ধর্ষণ একজন ভুক্তভোগীর জন্য যেমন ভয়াবহ কষ্ট ও অপমান হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হলে সেই ব্যক্তিকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাঁর জীবনও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।’

ওই নারী ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হলেও আদালত বলেছেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের কিছু কথোপকথনে দেখা গেছে, তিনি মোটেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন না ও অফিসের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পরও গোয়াতেই তাঁর থাকার পরিকল্পনা ছিল।

বিচারক দেখেছেন, অভিযোগকারী নারী অনেক স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার বিষয় তুলে ধরে বিচারক বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া বিবাদীর মৌলিক অধিকার। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তকালে দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা সুনীতা সাওয়ান্ত মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলেছিলেন, যা বিবাদীর স্পষ্ট নিষ্কলুষতা প্রমাণ করে।

তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর গোয়া পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে। মামলায় প্রাথমিক অভিযোগকারী ছিলেন সুনীতা সাওয়ান্ত। নিয়ম অনুযায়ী বাদী কখনো তদন্ত কর্মকর্তা হতে পারেন না। কিন্তু সুনীতা এই তদন্তের দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেননি।

আদালত ওই হোটেলের সিসিটিভির কিছু ফুটেজে কারসাজি করে থাকার সম্ভাবনাও বাতিল করে দেননি। আদালত বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের লিফটের পরিচালনা পদ্ধতি যাচাই করে দেখেননি। দেখেননি লিফটের দরজা ইচ্ছে করে বন্ধ করে রাখা যায় কি না, অথবা বোতাম চেপে সার্কিটে দেওয়া যায় কি না।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, নিচতলায় লিফট দুবার খুলেছে অথচ অভিযোগকারী দাবি করেন লিফট খোলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, সিসিটিভির ফুটেজ ও অভিযোগকারী ওই নারীর বক্তব্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। এরপরও তদন্ত কর্মকর্তা এই নারীর সঙ্গে আবার কথা বলে তা রেকর্ড করেননি।

গতকাল মঙ্গলবারই গোয়া সরকার আদালতের এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

তরুণ প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনাকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ এবং ‘পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেন। কিন্তু মামলা চলতেই থাকে। তিনি এক বিবৃতি দিয়ে কর্তৃপক্ষকে ওই সময়ের ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে আহ্বান জানান। গোয়ার বিজেপি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা করিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন