বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লখিমপুর খেরিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গাড়িবহর চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল গত বছরের ৩ অক্টোবর। ওই ঘটনায় চার কৃষক ও এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছিল। পরে উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তিন বিজেপি কর্মী-সমর্থকের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস ওই বহরে একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঘটনার বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও উত্তর প্রদেশ পুলিশ আশিসকে গ্রেপ্তার করেনি। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল আশিসসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে তিনি জেলে। ইতিমধ্যে তদন্তকারী দল আদালতে জানায়, ৩ অক্টোবরের ঘটনা মোটেই কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। বরং তা ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এরপরই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআরে খুনের অভিযোগ যুক্ত করা হয়। গতকাল দাখিল করা অভিযোগপত্রেও এর উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই জেলে রয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়নি অজয় মিশ্রের আত্মীয় পর্যায়ের এক নেতাকে। ওই ঘটনার প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোট আসন্ন। তার আগে এই অভিযোগপত্র দাখিল শাসক বিজেপির পক্ষে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। অজয় মিশ্রের অপসারণের দাবি জোরালো হলেও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে রাজি নন। এর কারণ অবশ্যই উত্তর প্রদেশের জাতভিত্তিক রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের আমলে রাজ্যের ব্রাহ্মণেরা যথেষ্ট অখুশি। তাঁদের খুশি করতে ভোটের আগে রাজ্য মন্ত্রিসভা ও সংগঠনে ব্রাহ্মণদের বিভিন্নভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় অজয়কে ছেঁটে ফেললে ভোটে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা। তাঁদের যুক্তি, ছেলের অপরাধে বাবাকে শাস্তি দেওয়া যায় না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন