ভারতে কৃষক বিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে। বেঙ্গালুরু, ২৮ সেপ্টেম্বর
ভারতে কৃষক বিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে। বেঙ্গালুরু, ২৮ সেপ্টেম্বরছবি: এএফপি

কৃষকদের দিল্লি অবরোধের অষ্টম দিনে টানা সাত ঘণ্টা বৈঠকের পরও যুযুধান দুই পক্ষ কোনো বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে পারল না। সরকার কিছুটা নমনীয় হলেও তিন আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক সংগঠনের নেতারা অনড়। আইন বাতিলে তাঁরা অবিলম্বে সংসদের জরুরি অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছেন। শনিবার আবার বৈঠক।

বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং টোমার, রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল ও শিল্পমন্ত্রী সোম প্রকাশ কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দেন। যেমন বলা হয়, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) রাখার বিষয়ে সরকার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। চুক্তি চাষের বিরোধ মেটাতে কৃষকদের আদালতে যাওয়ার অধিকারও দেওয়া যায়। নতুন আইনে এই জাতীয় বিরোধ মেটানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে। ফসলের গোড়া খেতে পোড়ানোর শাস্তি হিসেবে জেল ও জরিমানা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবেও কেন্দ্র রাজি। বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, এমএসপি ছিল, আছে, থাকবেও। অন্যান্য বিষয়ও সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনায় রাজি। প্রশ্ন হলো, এমএসপির প্রতিশ্রুতি আইনে রাখা না হলে কৃষকনেতারা কতটা সন্তুষ্ট হবেন। তাঁদের এখনো দাবি, একমাত্র আইন বাতিলই তাঁদের সন্তুষ্ট করবে ও আন্দোলন প্রত্যাহারে সাহায্য করবে। সরকার আইন প্রত্যাহারে নারাজ।

কৃষক–সরকার দূরত্ব ও বিশ্বাসের ঘাটতি এতটাই যে বৃহস্পতিবার সরকারের ব্যবস্থা করা মধ্যাহ্নভোজ কৃষকনেতারা গ্রহণ করেননি। আন্দোলনকারীদের পাঠানো খাবার তাঁরা খান। কৃষক বিক্ষোভের সমর্থনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কৃষক সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছে। সর্বত্র দাবি উঠেছে আইন বাতিলের।

বিজ্ঞাপন

কৃষক আন্দোলন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলতে বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি আসেন পাঞ্জাবের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রথমত, কৃষক বিক্ষোভে উসকানি দিয়ে রাজনীতি করার যে অভিযোগ বিজেপিশাসিত হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার তাঁর বিরুদ্ধে এনেছেন, তা ভুল প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া যে দ্রুত মীমাংসা না হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিঘ্নিত হবে দেশের নিরাপত্তা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে অমরিন্দর বলেন, ‘কৃষক আন্দোলনের সমাধান করতে আমি আসিনি। এসেছি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। রাজ্যের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। দেশের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।’

সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। চাপ বাড়িয়েছে এনডিএর শরিকেরা। বিরোধীরাও। কৃষক বিল পাস হওয়ার পরপরই এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায় বিজেপির সবচেয়ে পুরোনো শরিক শিরোমনি অকালি দল। বৃহস্পতিবার সেই দলের অবিসংবাদিত নেতা ও পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল ‘পদ্মবিভূষণ’ খেতাব ফিরিয়ে দেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, কৃষকদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। হরিয়ানায় বিজেপি সরকারের শরিক জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি) চাপ দিয়েছে আইনে এমএসপি অন্তর্ভুক্ত করতে। রাজস্থানে বিজেপির শরিক দল রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টিও (আরএলপি) বলেছে, আইন বাতিল না করা হলে তারা জোট ছাড়তে বাধ্য হবে। দুই দলেরই প্রধান ভিত কৃষক ও সেনা পরিবার।

কৃষক–সরকার দূরত্ব ও বিশ্বাসের ঘাটতি এতটাই যে বৃহস্পতিবার সরকারের ব্যবস্থা করা মধ্যাহ্নভোজ কৃষকনেতারা গ্রহণ করেননি। আন্দোলনকারীদের পাঠানো খাবার তাঁরা খান। কৃষক বিক্ষোভের সমর্থনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কৃষক সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছে। সর্বত্র দাবি উঠেছে আইন বাতিলের।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ও কৃষকদের পক্ষ নিয়ে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বলেন, নতুন কৃষি আইন কালা কানুন। প্রত্যাহার না করলে দেশ ও দেশের কৃষকদের প্রতি অন্যায় ও অবিচার করা হবে।

মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট মারফত বলেছেন, অবিলম্বে আইন প্রত্যাহার করা না হলে তাঁরা দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও লোকসভার বিরোধী নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে বলেছেন, দেরি না করে এখনই সংসদের শীতকালীন অধিবেশন ডাকা হোক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন