default-image

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী প্রচারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না তিনি। নির্বাচন কমিশন এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

আজ ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, মুসলিম ভোটারদের ভোট নিয়ে মন্তব্য করায় এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের উসকানি দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর জবাবে সন্তুষ্ট নয় কমিশন। তাই আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাঁর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝাড়েন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা। তিনি টুইট করে জানিয়েছেন, কমিশনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কাল মঙ্গলবার তিনি এর প্রতিবাদে ধরনায় বসবেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর আর ৭ এপ্রিল কোচবিহারের জনসভায় নির্বাচনী প্রচারে মমতা অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের প্রভাবিত করছে। মেয়েদের ভোট দিতে দিচ্ছে না। ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে। এত ক্ষমতা ওরা পেল কোথা থেকে? কে দিয়েছে ওদের ক্ষমতা? বাংলায় ওদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি আমরা। ওরা এখন এই বাংলায় এসে লাঠি দিয়ে মারছে আমাদের ভোটারদের।’ তাই মমতা হাতা-খুন্তি-বঁটি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোকাবিলা করার ডাক দেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘বুথ থেকে কাউকে বের করে দিলে ওদের জবাব দিতে হবে। পাঁচজন ওদের ঘেরাও করে রাখবেন আর পাঁচজন ভোট দেবেন। ভুলে যাবেন না, ঘেরাওয়ের নামে ভোটদান বন্ধ করলে আমাদের ক্ষতি হবে। তাই ঘেরাওয়ের পাশাপাশি ভোটদান চলবে।’

এর আগে ৩ এপ্রিল হুগলির তারকেশ্বরে এক নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের একজোট হয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট যেন ভাগ না হয়। বিজেপি টাকার থলি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ওরা সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে চায়। তাই আপনারা বিজেপির কথায় কান না দিয়ে একজোট হয়ে ভোট দিন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার আট দফায় ভোট হচ্ছে। এরই মধ্যে চার দফায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট শেষে আগামী ২ মে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন