নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও সংবিধান ও পতাকা বজায় রাখার দাবি থেকে এখনো সরেনি এনএসসিএন-আইএম। ফলে আলোচনা কত দূর এগোবে তা বলা মুশকিল।

উত্তর-পূর্ব ভারতে যে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আছে, তার মধ্যে এনএসসিএনের আন্দোলন সবচেয়ে পুরোনো। ১৯৯৭ সালে এনএসসিএন সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই করলেও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত থামেনি। আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার প্রভাব অনেকটা কমে যাওয়ার পরে এনএসসিএন-আইএমই এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন।

এনএসসিএনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ২০১৫ সালে নতুন করে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই করে শান্তি আলোচনা শুরু করে। এরপর ভারত সরকারের তরফে নাগা সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হলেও এনএসসিএন সেই দাবি মানতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনার জেরে ভারত সরকারের তৎকালীন মধ্যস্থতাকারী রবীন্দ্রনারায়ণ রবির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে এনএসসিএন-আইএম নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, রবি ‘বিভ্রান্তিকর’ কথাবার্তা বলছেন। গোষ্ঠীর তরফে এ কথাও বলা হয়, ‘রবি এনএসসিএনকে হুমকি দিচ্ছেন, ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবরের আগে চুক্তি সই করার জন্য।’ এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রবিকে সরিয়ে তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল করে পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্র সরকার। ভেস্তে যায় এনএসসিএন-আইএমের সঙ্গে শান্তি আলোচনা।

তাদের বক্তব্য ছিল, ভারত সরকারকে নাগাল্যান্ডের স্বাধীন পতাকা এবং সংবিধান মানতে হবে। অর্থাৎ কার্যত তারা সার্বভৌমত্বের দাবি করে, যা মেনে নেওয়া ভারত সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ওই ঘটনার আড়াই বছর পর কেন্দ্রের নতুন মধ্যস্থতাকারী এ কে মিশ্র ক্যাম্প হেব্রনে গিয়ে ফের আলোচনা শুরু করলেন। আগামী সাত দিনে মিশ্র নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগঠন নাগা ন্যাশনাল পলিটিক্যাল গ্রুপস এবং কেন্দ্র সরকারের বিশেষ কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করবেন।

নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও সংবিধান ও পতাকা বজায় রাখার দাবি থেকে এখনো সরেনি এনএসসিএন-আইএম। ফলে আলোচনা কত দূর এগোবে তা বলা মুশকিল। এনএসসিএন অবশ্য জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক হবে বলে তারা মনে করছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন