default-image

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল রোববার শপথ নিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশকে ‘উত্তম প্রদেশে’ পরিণত করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, মোদি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশের উন্নয়নের দায়িত্ব দেবেন। তবে আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী করায় অনেকের আশঙ্কা, বিজেপি হয়তো আগামী দিনে উন্নয়নের বদলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকেই কৌশল হিসেবে বেছে নেবে।
উত্তর প্রদেশের এবারের বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগেই, ২০১৬ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে এক জরিপ চালায়। এতে জনপ্রিয় নেতাদের তালিকায় যাঁদের নাম এসেছিল, তাঁদের মধ্যে যোগী আদিত্যনাথ একজন। তবু দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে আদিত্যনাথের ওপর ঠিক আস্থা রাখতে পারছিলেন না। উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চল থেকে পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত এই নেতা খুব বেশি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নির্বাচনের আগেই তাঁকে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা না করায় সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। বিজেপি নেতৃত্ব তখন আদিত্যনাথকে সংযত হতে বলেন। কিন্তু তাঁকে তালিকা থেকে বাদ দেননি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ গোরখপুরে প্রচারাভিযানের সময় আদিত্যনাথকে পাশে রাখেন। শেষমেশ তাঁকেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিল বিজেপি।
যোগী আদিত্যনাথের আসল নাম অজয় সিং। জন্ম ১৯৭২ সালের ৫ জুন। উত্তরাখণ্ডের গাড়ওয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তিনি। ২১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে গোরখনাথ মঠে মোহন্ত আদিত্যনাথের শিষ্য হন। মোহন্তের মৃত্যুর পর তিনিই সেখানকার প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব পান।
গোরখপুর আসনে ১৯৯৮ সাল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হচ্ছেন আদিত্যনাথ। দ্বাদশ লোকসভায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী সাংসদ।
ন্যাড়া মাথা আদিত্যনাথ সব সময় গেরুয়া পোশাক পরেন। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের এই প্রবক্তা বিতর্কিত মন্তব্য করে অনেকবারই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, তিনি অনেক সময় উসকানি ছড়িয়ে থাকেন।
উত্তর প্রদেশের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, সমাজবাদী পার্টির সরকার সংখ্যালঘু তোষণের কৌশল নিয়েছে। তখন আদিত্যনাথ এক ধাপ এগিয়ে বলেন, সমাজবাদী পার্টি উন্নয়নের নামে কবরস্থান নির্মাণে অর্থ ব্যয় করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, লক্ষ্ণৌয়ে বিজেপির সরকার এলে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ সুগম হবে।
কট্টরপন্থী এই রাজনীতিককে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বাছাইয়ের পর বিজেপি নেতা জিভিএল নরসীমা রাও বলেন, আদিত্যনাথকে কেবল গেরুয়া পোশাক দিয়ে বিবেচনা করবেন না।
আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানোয় অনেকের আশঙ্কা, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি উন্নয়নের রাজনীতির বদলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকেই কৌশল হিসেবে বেছে নেবে। জিভিএল নরসীমা রাও অবশ্য এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
আদিত্যনাথ তাঁর কঠোর নীতি এবং বিভক্তিমূলক বক্তব্যের জন্য সমালোচিত হলেও লোকসভায় তাঁর বক্তব্যে নানামুখী বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মস্তিষ্ক-প্রদাহে ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বিজেপির রাজ্য শাখার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর আদিত্যনাথ রাজভবন থেকে বেরিয়ে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার জন্য উন্নয়ন’ নীতি অনুসরণ করেই উত্তর প্রদেশকে এগিয়ে নেবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন