default-image

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ভেবেছিল, আনলক ওয়ানে ইতিবাচক ফল মিলবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। গত দুই দিনে পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা

দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গেছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে এক আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন।
চতুর্থ দফার লকডাউন তুলে ভারত সরকার গোটা দেশে জারি করে আনলক ওয়ান (পঞ্চম দফা)। ১ জুন থেকে শুরু হয় আনলক ওয়ান। এই ব্যবস্থায় বহু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। আনলক ওয়ানের জেরে কার্যত শিকেয় উঠেছে কড়াকড়ির লকডাউন।


পঞ্চম দফার পদক্ষেপে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অতি সংক্রমিত এলাকা বা কনটেনমেন্ট জোনকে রাখা হয় লকডাউনে। বাকি প্রায় সব এলাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


আনলক ওয়ান জারি হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।


২ জুন পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া বুলেটিনে আনলক-১-এর নেতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে। এদিন বলা হয়, ১ জুন পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করেনায় সংক্রমিত হয়েছে ২৭১ জন। মারা গেছে ৮ জন। আজ ৩ জুন বলা হয়, ২ জুন পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমিত হয়েছে ৩৯৬ জন। মারা গেছে ১০ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৬ জনই কলকাতার বাসিন্দা।


সব মিলিয়ে রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৬৮ জন। মৃতের সংখ্যা ২৬৩ জন। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৭২ জন, যাঁরা অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।


অন্যদিকে ২ জুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে বলা হয়, ১ জুন ভারতে সংক্রমিত হয়েছে ৮ হাজার ৩৯২ জন। মোট সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২৩০ জন। মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯৪ জন।


সারা দেশে ২ জুন ৮ হাজার ১৭১ জন সংক্রমিত হয়। এতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের।মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৯৮ জন।


সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আইনজীবী আনিন্দ্য সুন্দর দাস কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করেছে একটি জনস্বার্থ মামলা। তিনি তাঁর আবেদনে বলেছেন, ৭০ দিন একটানা করোনার লকডাউনের পর কেন্দ্রীয় সরকার আনলক-ওয়ান ঘোষণার পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয়ে ছাড় দিয়েছে। এর ফলে এখন প্রায় সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই আনলক ওয়ান বহাল হওয়ার পর বেড়ে গেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।


আবেদনকারী দাবি করেন, আনলক ওয়ান নিয়ে সংশয়ে দেশের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা। যেখানে লকডাউন চলাকালেই বহু জায়গায় মানুষ তা অমান্য করে রাস্তায় নেমেছে, মাস্ক না পরে ঘুরে বেড়িয়েছে, সামাজিক দূরত্ব মানেনি, প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করেছে, সেখানে আনলক ওয়ান সাধারণ মানুষের আরও ক্ষতি করেছে। যেখানে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জুন মাসে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, সেখানে জুন মাসেই লকডাউন তুলে নেওয়া হলো। তাই এ ব্যাপারে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করেছেন।


কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করণ রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0