default-image

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারাভিযান আরও বেগবান করতে আবারও কলকাতায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার মেট্রো বা পাতালরেলের নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। একই দিন হুগলির চুঁচুয়ায় এক নির্বাচনী জনসভা করার কথাও রয়েছে তাঁর। এর আগে মোদি সর্বশেষ এই রাজ্যে এসেছিলেন ৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া শিল্পশহরে।

এদিকে বিজেপি আয়োজিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’র শেষ পর্বের উদ্বোধন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসছেন কলকাতায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে এ যাত্রার সূচনা করবেন তিনি। যোগ দেবেন জনসভা ও রোড শোতে। আর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

ইতিমধ্যে আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রচারযুদ্ধ জমে উঠেছে। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম দল কেউ বসে নেই। চলছে এক দলের বিরুদ্ধে অন্য দলের চ্যালেঞ্জ, পাল্টা–চ্যালেঞ্জ। পাল্টাপাল্টি কথার লড়াইও।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী ডামাডোলে বসে নেই তৃণমূলও। তারা বিজেপির আদলে শুরু করেছে ‘দিদির দূত’ নামে একটি ট্যাবলোর যাত্রা। একটি গাড়িকে সাজিয়ে শুরু করা হয়েছে এই প্রচার যাত্রা। গতকাল শনিবার এ যাত্রা চলেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কামালগাজি থেকে সোনারপুর পর্যন্ত।

গতকাল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি, সাংসদ ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলপিতে এক জনসভার পর সূচনা করেন এ দিদির দূত যাত্রার। যাত্রা শুরুর আগে অভিষেক ঘোষণা দেন, আগামী ৫০ বছর এই বাংলায় থাকবে তৃণমূল। মমতা এবার ২৫০ আসন পেয়ে জিতবেন। মমতা হবেন তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, এখনো এই বাংলার মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে শুধু মমতার নাম। তাই কী করে অমিত শাহ বললেন, এই বাংলা থেকে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলবেন?

গত বৃহস্পতিবার কোচবিহারে এসে অমিত শাহ বলেছিলেন, এই বাংলা থেকে মমতার দলকে উপড়ে ফেলা হবে। ওই দিন দুপুরে চতুর্থ পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে গিয়ে অমিত শাহ আরও বলেছিলেন, ‘শ্রীরাম ধ্বনি শুনলেই মমতা অপমানবোধ করেন। তাই তো এবারের আসন্ন বিধানসভার ভোট শেষ হতে হতে মমতাও বলবেন জয় শ্রীরাম।’ পরিবর্তন যাত্রা এই বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের যাত্রা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাল্টা মন্তব্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল বলেন, মমতা মানুষের হৃদয়ে বাস করেন। পদ্মফুলের ডাঁটা কাটলে শুকিয়ে যায় আর ঘাসফুলকে যত কাটবে ততই বাড়বে। প্রসঙ্গত, বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক পদ্মফুল আর তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ঘাসফুল।

আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন