default-image

পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য এক হাজার কোটি রুপির সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আম্পানে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবার–পিছু দুই লাখ রুপি করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মোদি এসব সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে আসেন। ঘুরে দেখেন আম্পানে বিধ্বস্ত এলাকা। এরপর তিনি বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সেখানে তিনি এই রাজ্যের জন্য উল্লিখিত অনুদানের কথা ঘোষণা করেন।

বেলা ১১টার দিকে মোদি কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন। এ সময় বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মোদির সঙ্গে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরী, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রতাপচন্দ্র সারেঙ্গি। এখান থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে সঙ্গে নিয়ে আম্পান–বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। আকাশপথে তিনি বিধ্বস্ত এলাকা দেখেন। তিনি উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙর, গোসাবা, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, কলকাতার রাজারহাট ও বসিরহাটের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বসিরহাটে পশ্চিমবঙ্গের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার চেষ্টা করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারও তার পাশে থেকে যথাযথ চেস্টা করবে। বাংলার এই সংকটের সময়ে গোটা দেশ বাংলার পাশে আছে। করোনার কারণে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে না। এই সংকট থেকে রাজ্য দ্রুত বেরিয়ে আসুক, আমি পাশে আছি। বাংলার এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি। বাংলার সব প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার পাশে আছে। রাজ্য সরকারকে এই মুহূর্তে সাহায্যস্বরূপ এক হাজার কোটি রুপি এবং যাঁরা এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার–পিছু দুই লাখ রুপি করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

default-image

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদির সঙ্গে বৈঠকে এই রাজ্যে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেন। এসব এলাকায় জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদানের আবেদনও করেন।

পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া জেলা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বুধবার এই আম্পানের মহাপ্রলয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে কলকাতা। একই সঙ্গে স্তব্ধ রাজ্যের সাতটি জেলা।

কলকাতাসহ ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত অধিকাংশ এলাকায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ, পানি, ফোন, মোবাইল আর নেট পরিষেবা নেই। কলকাতার বহু স্থান এখনো ডুবে আছে আম্পানের পানির নিচে। চলছে উদ্ধারকাজ। কলকাতাসহ অন্যত্র হাজার হাজার গাছ ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ আর মোবাইল টাওয়ারের খুঁটি। বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড়কবলিত গোটা এলাকা।

আজ তিন দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে গোটা বিধ্বস্ত এলাকা। মোবাইল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ কারোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছে না। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। পানি, বিদ্যুৎ এবং মোবাইল পরিষেবা না পেয়ে দিকে দিকে শুরু হয়েছে আর্তনাদ। বিদ্যুৎ চাই, পানি চাই, মোবাইল পরিষেবা চাই। যদিও জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পানি পরিষেবা সচল করতে কাজ শুরু হয়েছে। চলছে উদ্ধার কাজসহ বিভিন্ন সড়ক পরিষ্কারের কাজ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0