বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের সভাপতিত্বে ২৫৯৩ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবে সম্মতি না দিলেও সংখ্যাধিক্যের সমর্থনে তা গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের জমি সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের জন্য ব্যবহৃত হবে না।

আফগানিস্তানের জমি থেকে অন্য দেশে সন্ত্রাস রপ্তানি করা হবে না। আফগানিস্তান অন্য দেশের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। তারা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দেবে না, অর্থ সাহায্যও করবে না। প্রস্তাবে এ-ও বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ১২৬৭ প্রস্তাবে যারা নিষিদ্ধঘোষিত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈঠকে ওই প্রস্তাব অনুযায়ী বৈশ্বিক শক্তিদের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার চার মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা এ নিয়ে আলোচনা করলেও এবং বিবৃতিতে সন্ত্রাস রোধসংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা অজানা। ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাতে জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্তরা স্থান পেয়েছেন। ভারতের মাথাব্যথা বিশেষ করে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট হাক্কানি গোষ্ঠী। সেই গোষ্ঠীর নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি দেশের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। সে জন্য ভারত নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে। বিশেষ করে কাশ্মীর উপত্যকা নিয়ে।

সূত্রের খবর, বৈঠকে নিরাপত্তার এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক জোটবদ্ধতা কীভাবে কার্যকর করা যায়, আলোচনা হয় তা নিয়েও।

বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মিলিত হয়েছি, যখন একদিকে অতিমারি, অন্যদিকে সতত পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতির পরিবেশ মানবজাতির কাছে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় দ্বিপক্ষীয় স্তরে তো বটেই, সমভাবাপন্নদের নিয়ে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করতে হবে। তারই পাশাপাশি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী করে তুলতে হবে।’

জয়শঙ্কর বলেন, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ ‘কোয়াড’ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত সামরিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ব্যাপ্তি পর্যালোচনার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব রুখে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চতুর্দেশীয় সংগঠন কোয়াডের সৃষ্টি। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তির সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক ভারসাম্যে বদল ঘটিয়েছে। আফগানিস্তানের ওপর চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের প্রভাব প্রভূত বৃদ্ধি পেয়েছে। কমেছে ভারতের প্রভাব। চীনের প্রভাব বৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেও উদ্বেগের।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন