বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতে যখন বিজেপিবিরোধী সব দলকে এক করে একটি সর্বভারতীয় মহাজোটের কথা ভাবা হচ্ছে, তখন আসামের বিজেপিবিরোধী জোটের পতন নিঃসন্দেহে বিরোধীদের জন্য একটা ধাক্কা। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এই ভাঙনকে ‘কৌশলগত’ হিসেবে দেখছেন।

এ ছাড়া পশ্চিম আসামের বোড়ো উপজাতীয় দল বোড়োল্যান্ড পিপল’স ফ্রন্টের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছে কংগ্রেস। প্রায় একই সময়ে (১ সেপ্টেম্বর বুধবার) আসামে জোটের বাইরে থাকা রাইজোর দলের জনপ্রিয় নেতা অখিল গগৈ দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস দলের রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কেন ভাঙল এই জোট

গত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ বেশ ভালো ফল করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায়। বিজেপি যেখানে পেয়েছিল ৩৩.২ শতাংশ ভোট ও তার প্রধান শরিক অসম গণপরিষদ ৭.৯ শতাংশ ভোট, সেখানে কংগ্রেস ও তার প্রধান শরিক এআইইউডিএফ পেয়েছিল যথাক্রমে ২৯.৬ ও ৯.৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ বিজেপি জোটের থেকে কংগ্রেসের জোট মাত্র ২ শতাংশ ভোট কম পেয়েছিল। এআইইউডিএফ আসনও কিছু খারাপ পায়নি, ১২৬ আসনের বিধানসভায় তারা পেয়েছিল ১৬টি আসন। কিছুদিন যাবৎ এআইইউডিএফের নেতারা প্রকাশ্যে রাজ্যের বিজেপি সরকার ও তার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাজের প্রশংসা করছিলেন। এআইইউডিএফের প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের ভাই সিরাজউদ্দিন সম্প্রতি বিশ্বশর্মাকে দেশের ‘এক নম্বর’ মুখ্যমন্ত্রী বলে অভিহিত করেছেন।

তবে আসামের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, জোট ভাঙার আসল কারণ ভিন্ন। আসামে মোট ১২৬ আসনের প্রায় অর্ধেক, ৫৬টি, আপার আসাম বা উত্তর ও উত্তর-পূর্ব আসামে। এআইইউডিএফের এক নীতিনির্ধারক বিধানসভা নির্বাচনের কিছুদিন পরে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘আমরা কংগ্রেসকে বারবার বলেছিলাম, মুসলিমপ্রধান এআইইউডিএফের সঙ্গে জোট না করতে। কারণ, আপার আসামের হিন্দু জনগোষ্ঠী, অহম ও মূলনিবাসী মানুষ বাঙালি মুসলমানের দল এআইইউডিএফের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট ভালোভাবে নেবে না।’ ওই নীতিনির্ধারক মনে করেন, কংগ্রেস বরং অখিল গগৈর মতো আসামের মূলনিবাসী ও হিন্দু-সমর্থিত রাইজোর দলের সঙ্গে জোট করলে আপার আসামে ভালো ফল করত।

আসামে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে। এর মধ্যে তিনটি আসন আপার আসামে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এই তিন আসন জেতার লক্ষ্যেই আপাতত বদরুদ্দিন আজমলের দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াল কংগ্রেস।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন