default-image

ভারতের আসামে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ করে ফেসবুকে বিদ্বেষমূলক হিংসাত্মক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ৫৪ লাখ বার দেখা হয়েছে। আভাজ নামের একটি বৈশ্বিক নাগরিক আন্দোলনের করা সাম্প্রতিক এক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজ্যটিতে ১৯ লাখ মানুষ তাঁদের নাগরিকত্ব হারানোর সম্মুখীন।

আভাজের ‘মেগাফোন ফর হেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঙালি মুসলমানদের লক্ষ্য করে ফেসবুকে ‘অপরাধী’, ‘ধর্ষক’, ‘সন্ত্রাসী’সহ নানা কনটেন্ট তৈরি করে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্ট এক লাখের বেশি শেয়ার হয়েছে। আসাম ঘিরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক পোস্টের সমুদ্রে এটি সামান্য ফোঁটা মাত্র।

আসামে নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি প্রক্রিয়ার সময় ওই তদন্ত করা হয়। গত আগস্টের শেষ দিকে ওই এনআরসি ঘোষণা দেওয়া হলে ১৯ লাখ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যাঁরা এখন রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে। জাতিসংঘ এ নিয়ে কয়েক দফা সতর্ক করে বলেছে, সেখানে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে হিংসাত্মক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।

হেট স্পিচ বা ঘৃণ্য বক্তব্য শনাক্তকরণে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা (এআই) শনাক্তকারী প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। এর পথে জাতিগত উদ্বেগ বাড়ছে। ফেসবুকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কর্মী নিয়োগ দিয়ে কনটেন্ট ফিল্টারিং প্রক্রিয়ার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আভাজের জ্যেষ্ঠ প্রচারক আলাফিয়া জোয়াব বলেন, ঘৃণিত বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে মেগাফোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক। সরাসরি আসামের সংখ্যালঘুদের নির্দেশ করে তিনি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে আসামের সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রহীন হয়ে যাবে। বর্তমান এসব মানুষ পরিষ্কার বিপদের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ফেসবুক তাদের নিরাপদ রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আভাজের পক্ষ থেকে আসাম সম্পর্কিত ৮০০ পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ কনটেন্ট ফেসবুকের ঘৃণিত বক্তব্যের নীতিমালা ভঙ্গ করে। ফেসবুকের কাছে আভাজের পক্ষ থেকে প্রমাণ দেওয়া হলে ১২৩টি পোস্টের মধ্যে ৯৩টি পোস্ট ফেসবুক মুছে দেয়।

আভাজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের মানুষদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, এর সঙ্গে অনেকটাই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছড়ানো বক্তব্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়ানো রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন