আইআইআরএস বলছে, হিমবাহ ধসে নয়, ভূমিধসের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
আইআইআরএস বলছে, হিমবাহ ধসে নয়, ভূমিধসের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।ছবি: এএফপি

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের চামোলি জেলার জোশিমঠে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে দেরাদুনভিত্তিক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং (আইআইআরএস)। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) অন্তর্ভুক্ত আইআইআরএস বলছে, হিমবাহ ধসে নয়, ভূমিধসের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার আইআইআরএস তাদের প্রতিবেদন রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিধসের কারণে জমে থাকা তুষার গলে নিচের দিকে নেমে আসে। রাজ্য সরকারের দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক পিয়ুস রাউতেলা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, আইআইআরএসের স্যাটেলাইট ছবিতে এমন তথ্য জানা গেছে।

ওই এলাকায় ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি ভারী তুষারপাত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইআইআরএসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হিমবাহে ধস হয়নি। ওই এলাকায় এ রকম কোনো হিমবাহ থাকার প্রমাণ মেলেনি। ভূমিধসের কারণে জমে থাকা তুষার গলে এই ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

ধরিত্রীবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অজন্তা গোস্বামী রাইনি গ্রাম ও রিশিগঙ্গার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেছেন, গ্রামটির পূর্ব দিকে এ ধসের ঘটনা ঘটে।
গোস্বামী বলেন, বন্যার এত পানি আসার দুটি কারণ থাকতে পারে। হিমবাহে সব বরফ কঠিন থাকে না। হিমবাহের ভেতরে বেশ কিছু অংশে পানি জমে থাকে। ভূমিধসের কারণে হিমবাহের বরফ গলে বন্যার সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় আরেকটি কারণ হতে পারে জমে থাকা বরফের কারণে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়। সেখান থেকে বন্যা হয়। আরও স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে বলে জানান তিনি।

এএফপির খবরে জানা যায়, সুড়ঙ্গে আটকা মানুষকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের উদ্ধারকারী দল। এ ঘটনায় ১৭০ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে।

এনটিপিসি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৪৮ জন কর্মী ছিলেন। রিশিগঙ্গা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছিলেন ২২ জন কর্মী। তাঁরা সবাই নিখোঁজ। নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে ১২ জন আটকে ছিলেন। আইটিবিপি দল তাঁদের উদ্ধার করেছে। আরেকটি সুড়ঙ্গে প্রায় ৩০ জন আটকা আছেন।

দুর্ঘটনাস্থলে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী কাজ করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটে জানান, ভারত উত্তরাখন্ডের পাশে রয়েছে। সবার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন