বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে আজ লিখিত নির্দেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ঈদ পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও নতুন ধরনের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে না। ঐতিহ্যগতভাবে যে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে, শুধু সেগুলোই পালন করা যাবে। লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, রীতি ও প্রথাগতভাবে যেসব ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহার হয়ে আসছে, শুধু সেগুলো চালানো যাবে। নতুন করে কোথাও মাইক লাগানো যাবে না। লাউডস্পিকারে আওয়াজ বা ‘ডেসিবেল’ মাত্রা মেনে চলতে হবে। দেখতে হবে, মাইকের উচ্চ স্বরে কারও অসুবিধা যাতে না হয়। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যেসব স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আগে থেকে হয়ে আসছে, সেসব স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে। নতুন কোনো স্থানে অনুমতি দেওয়া হবে না। রাস্তা আটকে বা গাড়ি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না।

রামনবমী ও হনুমানজয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গত কয়েক দিনে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক অশান্তি দেখা দিয়েছে। দাঙ্গা হয়েছে বিজেপিশাসিত কর্ণাটক, গুজরাট, উত্তরাখন্ড ও মধ্যপ্রদেশে; কংগ্রেসশাসিত রাজস্থানে; জোটশাসিত মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খন্ডে; তৃণমূল কংগ্রেসশাসিত পশ্চিমবঙ্গ, ওয়াই এস আর কংগ্রেসশাসিত অন্ধ্র প্রদেশ ও আম আদমি পার্টিশাসিত দিল্লিতে। অশান্তির এই আগুন যাতে উত্তর প্রদেশে না ছড়ায়, সে জন্য গতকাল সোমবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে গতকাল এসব নির্দেশ জারি করা হয়।

বৈঠকে আদিত্যনাথ বলেছিলেন, পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদ ও অক্ষয় তৃতীয়া খুব সম্ভবত একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এসব উৎসবে যাতে শান্তি বজায় থাকে, সেটাই প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য। এ জন্য সব থানার পুলিশ কর্তাদের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে কাটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোয় আগে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। শান্তি রক্ষায় ড্রোন ব্যবহার করতে হবে।

এদিকে মহারাষ্ট্রের কয়েকটি স্থানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গত রোববার রাত থেকে। ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অমরাবতী জেলার অচলপুরে কারফিউ জারি হয়েছে। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। বিনা অনুমতিতে বাজালে মাইক বাজেয়াপ্ত করা হবে।

রাজধানী দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে যে ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ে সংঘর্ষ বাধে, তার পুলিশি অনুমতি ছিল না বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্তানা জানিয়েছেন, হনুমানজয়ন্তী উপলক্ষে মোট তিনটি মিছিল বেরিয়েছিল। তৃতীয় মিছিলটি বেরিয়েছিল বিনা অনুমতিতে। তা থেকেই গোলমাল শুরু।

সেই মিছিলের উদ্যোক্তাদের আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরঙ্গ দলের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো পক্ষপাত হবে না। অপরাধী যে ধর্মেরই হোক, কড়া সাজা পেতে হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন