default-image

দুই বছর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭ বছরের মেয়েটি চাকরি চাইতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের তির ছিল উত্তর প্রদেশের শাসক দল বিজেপির চারবারের বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ টালবাহানা ও তদন্ত শেষে সেই অভিযুক্ত বিধায়ক এক বছর ধরে জেলবন্দী। বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা চালাচ্ছিলেন মেয়েটির বাবা। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাঁরও। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের তির বিধায়কের ভাই অতুলের দিকে। গতকাল রোববার এক সড়ক দুর্ঘটনায় এবার মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষা শুরু হয়েছে নির্যাতনের শিকার সেই নারীর, যাঁর বয়স এখন ১৯। দেশের রাজনীতি এখন এই নিয়ে উত্তাল।

গতকাল পরিবারের দুই সদস্য ও আইনজীবীর সঙ্গে এক গাড়িতে ওই তরুণী লক্ষ্ণৌ থেকে রায়বেরিলি যাচ্ছিলেন অন্য একটি মামলায় জেলবন্দী তাঁদের এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে। মাঝরাস্তায় উল্টো দিক থেকে তীব্র গতিতে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের গাড়ির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কায় দুজনের মৃত্যু হলেও গুরুতর আহত হন ওই নারী ও তাঁর আইনজীবী। পুলিশের দাবি, ট্রাকটি খালি ছিল। তার নম্বর প্লেটে কালিলেপা ছিল। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যান। সেই সময় খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ও অন্য নয় জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে গতকাল থেকেই। নির্যাতনের শিকার তরুণীর মায়ের অভিযোগ, রীতিমতো চক্রান্ত করে এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ধর্ষণের শিকার তরুণী এবং সেই মামলার এক সাক্ষীকে শেষ করে দেওয়া। যে দুজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই সাক্ষী। নির্যাতনের শিকার তরুণীর মায়ের অভিযোগ, জেলে বন্দী থাকলেও অভিযুক্ত বিধায়কই এই কাজ করিয়েছেন। আজ সংসদের উভয় কক্ষে বিষয়টি তোলা হয়। রাজ্যসভা কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীরা বিষয়টির উত্থাপন করেন। দাবি ওঠে রাজ্য পুলিশের হাত থেকে এই ঘটনার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেওয়ার।

সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র ও রাহুল গান্ধী। কদিন আগেই সোনভদ্র জেলায় নিহত আদিবাসীর পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ক্ষুব্ধ প্রিয়াঙ্কা আজ টুইট করে বলেছেন, ‘বিজেপি বিধায়কের হাতে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁর বাবা পুলিশ হেফাজতে মারা যান। এক সাক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় গত বছর। এবার ধর্ষণের মামলার এক সাক্ষীর মৃত্যু হলো। গুরুতর আহত হলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী ও তাঁর আইনজীবী। ধাক্কা মারল একটা ট্রাক, যার নম্বর প্লেট ছিল কালিলেপা। নির্যাতনের শিকার তরুণী নিজে ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে। অভিযুক্ত এখনো বিজেপির বিধায়ক এবং বিজেপি রাজ্য সরকার “ভয়মুক্ত উত্তর প্রদেশ”-এর প্রচার চালাচ্ছেন।’

চুপ নেই রাহুল গান্ধীও। এই ঘটনার পর তিনিও টুইট করে বলেছেন, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও—ভারতীয় নারীদের জন্য একটা বিশেষ শিক্ষা বুলেটিন। তবে কোনো বিজেপি বিধায়ক যদি আপনাকে ধর্ষণ করে থাকেন, তা হলে প্রশ্ন করবেন না।’

মূল ধর্ষণের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছিল। এই সড়ক দুর্ঘটনার দায়িত্বও দেওয়ার দাবি উঠেছে। ট্রাকচালক, তাঁর সহকারী ও মালিককে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ এটি দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইছে। যদিও এটা চক্রান্ত ছাড়া অন্য কিছু নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0