একাত্তরের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি: শ্রিংলা

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা
ফাইল ছবি

উপমহাদেশের বর্তমান সন্ধিক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী সিমলায় বাংলাদেশ–ভারত দশম মৈত্রী আলোচনায় যোগ দেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

শ্রিংলা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি মৌলবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের স্বার্থে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে। এই অপশক্তিকে রোখা জরুরি। সে জন্য প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটানো। যে মানসিকতা মুক্তিযুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়েছিল, তা নতুনভাবে জাগিয়ে তোলা দরকার। সে জন্য দুই দেশকে সংঘবদ্ধ হয়ে এগোতে হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে সিমলায় দুই দিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। এ সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ ও ‘বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিয়নাল স্টাডিজ’। কীভাবে যোগাযোগ আরও বাড়ানো যায়, সম্পর্কের নতুন নতুন দিক আলোকিত করা যায়, পারস্পরিক সম্পর্ককে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক বিকাশ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বাড়ে সেসব নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা আলোকপাত করেন। দুই দিনের সম্মেলন শেষে গৃহীত হয় ‘সিমলা ঘোষণাপত্র’, যার মূল লক্ষ্য দুই দেশের ‘সোনালি অধ্যায়’–এর ব্যাপ্তি ঘটানো। ওই সম্মেলন শেষ করে দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা আজ সোমবার সকালে দেখা করেন পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তারপর এক দীর্ঘ বিবৃতি প্রচার করে। পররাষ্ট্রসচিবের সেই বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মেলামেশা দুই দেশের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। সম্পর্ক মজবুত করবে। শ্রিংলা এ অবসরে ভাষাসৈনিকদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে বিবৃতিতে শ্রিংলা বলেন, গত বছর ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব কতখানি এবং দুই প্রতিবেশী একে অন্যকে কতটা ভরসা ও বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, এক দিন যারা তাচ্ছিল্য করেছিল, বাংলাদেশ তার সাফল্য দিয়ে তাদের ভুল প্রমাণ করেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নের নিরিখে বাংলাদেশ আজ এক গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের এ প্রবৃদ্ধি গোটা অঞ্চলের পক্ষে হিতকর।

দুই দেশের সম্পর্কের বহুমুখী চরিত্র ও ব্যাপ্তি ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে শ্রিংলা বলেন, সার্বিক উন্নয়নে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জরুরি। এ ব্যবস্থাপনা যেমন মানুষ ও পণ্যের চলাচল মসৃণ করবে, তেমনই অসামাজিক ও অবৈধ কাজকর্মে রাশ টানবে। এ লক্ষ্যে আরও সীমান্ত হাট খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শ্রিংলা জানান, ৪ ফেব্রুয়ারি বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে নদীপথে এক পণ্যবাহী যান খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশের নদী হয়ে তা মার্চের গোড়ায় আসামের পান্ডু পৌঁছবে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে গতি যেমন আসবে, তেমনই উপকৃত হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অভিন্ন নদীগুলোর ব্যবস্থাপনাতেও গতি সঞ্চারিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, খুলনায় মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের উদ্বোধন চলতি বছরেই হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার দিগন্ত বিস্তারে ‘বিমস্‌টেক’ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য ভারত অপেক্ষায় রয়েছে।