বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ, তা স্পষ্ট হলেও সোনিয়া কিন্তু কারও নাম করেননি। তবে আক্রমণের তির যে শাসক দলের প্রতি, তা বুঝিয়ে সোনিয়া বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো আমাদের মহান পূর্বসূরীদের কেউ কোনো দিন কল্পনাও করেননি, স্বাধীনতার প্রায় ৭৫ বছর পর দেশ এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। যেখানে আমাদের গণতন্ত্র ও সংবিধান এমন একটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে দাঁড়াবে।’

এত দিন ধরে প্রধানত রাহুল গান্ধীই নিয়মিত বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ করছিলেন। রাহুলের সঙ্গে এ আক্রমণে কিছুটা যোগ দিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। সম্প্রতি স্বয়ং সোনিয়া গান্ধী নিয়মিত সমালোচক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারদের পাওনা টাকা আটকে রাখা, করোনাকালের অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও রাজ্যগুলোর বকেয়া না মেটানো অথবা এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে ডাক্তারি–ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা নিয়ে সোনিয়া কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। প্রবেশিকা পরীক্ষার বিরুদ্ধে অ–বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠক ডেকে জনমত গঠনে সচেষ্ট হয়েছেন। শনিবারের সমালোচনা তারই অঙ্গ। আক্রমণ করলেন গণতন্ত্রকে দাবিয়ে স্বৈরতন্ত্রের মাথা তোলার প্রবণতার। সোনিয়া বললেন, অশুভ চিন্তাগুলো এখন মাথাচাড়া দিচ্ছে। প্রাধান্য পাচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এ মুহূর্তে কংগ্রেসেও চলছে এক প্রবল উথালপাতাল অবস্থা। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ফেরানো, সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো সময়ের সভাপতি নিয়োগ, নির্বাচিত নেতাদের দিয়ে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের দাবিতে সরব দলেরই প্রবীণ ও নবীন কিছু নেতা। সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে লেখা এ রকম ২৩ জন নেতার চিঠি দলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ডেকে আলোচনা করতে হয়েছে। ঠিক হয়েছে শিগগির এআইসিসির সম্মেলন ডাকার। এ অবস্থায় শনিবার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সোনিয়ার আক্রমণ রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন