default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বিজেপির তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ।

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ২৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন রুদ্রনীল।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর। তিনি এবার এই কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রামে নির্বাচন করেন। মমতার কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হন শোভনদেব। আর বিজেপি প্রার্থী করে রুদ্রনীলকে।

ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে নিজের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন রুদ্রনীল। তিনি মমতাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ভবানীপুরে হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূল নেত্রী পালিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে রুদ্রনীলের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির বড় বড় নেতা অংশ নেন। কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন রুদ্রনীল। তিনি লিখেছেন, ‘২১-এর ভোট যুদ্ধ শেষ। মানুষের রায়ে আশাতীত সাফল্যে প্রথম স্থানে তৃণমূল এবং দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। সিপিএম ও কংগ্রেস শূন্য। জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন। যাঁরা জয়ী হলেন না, তাঁদের পরিশ্রমকে কুর্নিশ। সব রাজনৈতিক দলের ভোটার, সমর্থক ও কর্মীদের ভালোবাসা জানাই।’

একই পোস্টে রুদ্রনীল লিখেছেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকেই। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে অভিনন্দন।’

default-image

রুদ্রনীলের অভিনয় জগতের দুই সহকর্মী তৃণমূলের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিক জয়ী হয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, সদ্য রাজনীতিতে পা দিয়েই জয়ী হয়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিক। দুজনকেই শুভেচ্ছা।

রুদ্রনীল লিখেছেন, ‘আশা করব প্রথা পাল্টে তৃণমূল এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে এবার। এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেছেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। যে কেউ হারুন বা জিতুন, নতুন সরকারে যেন ফের দুর্নীতি না জেতে, সেটাই কাম্য। জিতুক বাংলার সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ন, জিতুক বাংলার বেকারদের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন, জিতুক স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামো ও পুলিশের শিরদাঁড়া। হারুক ক্ষমতার আস্ফালন আর গুন্ডামি। জিতুক বাংলার শরীর ও মন।’

বিজ্ঞাপন

একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন রুদ্রনীল। পরে রং বদলে হন তৃণমূল। মমতার সরকারে রাজ্য কারিগরি শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ পর্ষদের সভাপতি ছিলেন রুদ্রনীল। বিভিন্ন সময় তিনি মমতার গুণগানও করেন। করোনাকালে ‘সাতে পাঁচে নেই’ কবিতা দিয়ে আলোচিত হন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেভাগে তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান রুদ্রনীল। মমতার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, গুন্ডামির অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হন রুদ্রনীল। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হারের পর তিনি ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেটি নিয়েও লোকজন তাঁকে কটাক্ষ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, লাল, সবুজ, গেরুয়ার পর এবার কোন রঙে ডুব দেবেন রুদ্রনীল?

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন