আগেরবার ক্ষমতায় এসে দ্রুত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের যে তাড়া ছিল, এবারের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী আম আদমি পার্টির (এএপি) তা নেই। বিপুলভাবে বিজয়ী এএপির সামনে অনেক সময়। তাই নতুন সরকার বেশ ধীরে-সুস্থেই কাজ করতে চায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
২০১৩ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এএপি ২৮টি আসন পেয়েছিল। কংগ্রেসের সমর্থনে গঠিত সেই সরকার কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয় ছিল। এ কারণে এএপিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে শশব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এবার দিল্লির ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টিই তাদের। এবার এএপি যে বেশ ধীরে-সুস্থেই এগোবে, তা দলটির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কথাতেই বোঝা যায়। গত শনিবার রামলীলা ময়দানে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, সময়সীমা বেঁধে দেবেন না। আগামী পাঁচ বছর জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্যই আমরা এসেছি। আমি শুধু একটি বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই, আমরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করব।’
কেজরিওয়ালের মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মনীশ সিসোদিয়া। সাংবাদিকেরা সিসোদিয়াকে তাঁদের ৭০ দফা কর্মসূচির মধ্যে প্রাধান্যের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘৭০ দফাই আমাদের প্রাধান্যের মধ্যে আছে। সবচেয়ে ভালোভাবে জনগণের সেবা করাই আমাদের মূল প্রাধান্য।’
কেজরিওয়াল বলছেন, তিনি দিল্লি থেকে দুর্নীতি নির্মূল করবেন। সিসোদিয়া দিয়েছেন দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য কমানো আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস।
ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘আপনারা আমাকে নির্বাচনে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে চাই, সরকারি কোনো দপ্তরের লোক আপনাদের হয়রানি করবে না। আমরা চাই ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি হোক।’
কেজরিওয়াল বলেন, ‘দয়া করে কর দিন। কাউকে আমি আপনাদের দেওয়া টাকা চুরি করতে দেব না। আপনাদের দেওয়া কর আমি রাস্তাঘাট, উদ্যান, বাজার উন্নয়ন এবং নারীদের নিরাপত্তার কাজে লাগাব।’
আম আদমির আরও পরিকল্পনা: দিল্লির বিশাল বিজয়ে উদ্দীপিত এএপি এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলটি চাইছে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো গাঁটছড়া না বেঁধেই প্রধান পাঁচ রাজ্যে তাদের ক্ষমতা বাড়াতে। এএপির তাত্ত্বিক গুরু হিসেবে পরিচিত যোগেন্দ্র যাদব পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল নই। দূর ভবিষ্যতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে বিকল্প দল হতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন