বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিবিরের প্রথম দিনে সাংগঠনিক বদলের ইঙ্গিত স্বীকার করে সোনিয়া আক্রমণের নিশানাও ঠিক করে দিলেন। বিজেপিকে তুলাধোনা করে প্রারম্ভিক ভাষণে বলেন, ‘সরকারকে সবচেয়ে কম, প্রশাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার যে কথা (ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স, মিনিমাম গভর্নমেন্ট) প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, তার অর্থ এখন স্পষ্ট এবং যন্ত্রণাময়। ওই স্লোগানের অর্থ, মানুষকে সর্বদা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রাখো। প্রবলভাবে মেরুকরণের রাজনীতি গ্রহণ করো। সংখ্যালঘুদের জীবন অত্যাচারে অতিষ্ঠ করে তোলো।’

সোনিয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে বহুত্ববাদী যে সমাজ এ দেশটাকে ধরে রেখেছে, তাকে নষ্ট করাই ওই স্লোগানের লক্ষ্য। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বদলে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপাদাপি প্রতিষ্ঠা তার উদ্দেশ্য।

সোনিয়া দলীয় নেতাদের বলেন, মুক্তমনে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়ে দলের দিশা স্থির করতে হবে। এই শিবির থেকেই কংগ্রেস ২০২৪ সালের রণকৌশল ঠিক করবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী দিনে দলে কম বয়সীদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ঠিক হতে পারে ‘এক পরিবার এক টিকিট’ প্রথা। এ নিয়ম চালু হলে এক পরিবারের একজনকেই ভোটে প্রার্থী করা হবে। তবে পরিবারের দ্বিতীয় সদস্য পাঁচ বছর সক্রিয়ভাবে দলীয় রাজনীতিতে থাকলে ব্যতিক্রম বলে গণ্য হবে। গান্ধী পরিবারকে অবশ্য এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে। সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার একটা সর্বোচ্চ বয়সও বেঁধে দেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি বিজেপিতে যে বয়স ৭৫–এ বেঁধে দিয়েছিলেন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রেও ঠিক করা হতে পারে, কোনো নেতাকে তিন অথবা চারবারের পর আর মনোনীত করা হবে না। উদ্দেশ্য, সংগঠন ও সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন রক্তের সঞ্চালন। সে জন্য একটা প্রস্তাব, প্রতিটি কমিটির ৫০ শতাংশ সদস্যের বয়স হতে হবে ৫০ বছরের কম।

বিজেপির মোকাবিলায় জোট রাজনীতির চরিত্র কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক প্রস্তাবে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সবাইকে নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও তার বাস্তবায়নে দল কোন কৌশল গ্রহণ করে, তা নিয়েও আগ্রহ দানা বাঁধছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন