default-image

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের তরুণী পশুচিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা ভারত বিক্ষোভ-প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে। এ সময় ড্যানিয়েল শ্রাবণ নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারীবিদ্বেষী এক পোস্ট লিখে বিক্ষোভের আগুন উসকে দিয়েছেন। ড্যানিয়েল শ্রাবণ নিজেকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পোস্টে লিখেছেন, ‘নারীর উচিত সঙ্গে কনডম রেখে ধর্ষণে সহযোগিতা করা।’

গতকাল বুধবার অল ইন্ডিয়ার তথ্যের বরাতে এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ড্যানিয়েলের এই ফেসবুক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ড্যানিয়েল অবশ্য তাঁর প্রোফাইল মুছে ফেলেছেন। সমালোচকেরা বলছেন, আলোচনায় আসতে ড্যানিয়েল এমনটা করে থাকতে পারেন। তবে তা ভালো উপায়ে হয়নি।

ড্যানিয়েলের ফেসবুক পোস্টের শিরোনাম, ধর্ষণ সাংঘাতিক কিছু নয়, কিন্তু হত্যা ক্ষমার অযোগ্য। ওই পোস্টে বলা হয়, সহিংসতা ছাড়া ধর্ষণ গ্রহণযোগ্য।

default-image



যদি আদালত, সরকার ও আইন ধর্ষণকে ক্ষমার সুযোগ দেন তাহলে ধর্ষকেরা ধর্ষণের পর হত্যার কথা ভাববে না বলেও মন্তব্য করেন ড্যানিয়েল।

ফেসবুকে ড্যানিয়েল বলেন, হত্যা অপরাধ। পাপ। ধর্ষণের শাস্তি সংশোধনযোগ্য হতে পারে। তিনি বলেন, জরুরি পুলিশ সেবা ১০০ তে ফোন না দিয়ে নারীরা সঙ্গে কনডম রাখুক। নারীদের নিরাপত্তা কনডমের মাধ্যমেই সম্ভব। নির্ভয়া আইনে নয়।

ড্যানিয়েলের নীতিবহির্ভূত পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে শেয়ার করেছেন দক্ষিণের অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাড্ডা। তিনি টুইট করেন, ড্যানিয়েলের পোস্টের কিছু অংশ তেলেগু ভাষায়। পোস্টে ড্যানিয়েল যা বলতে চেয়েছেন, তা হলো নারীরা সহযোগিতা করলে ও কনডম রাখলে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা থেকে রেহাই পাবেন। ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীবিষয়ক সংগঠনগুলো। ড্যানিয়েলের মতে, ধর্ষণ ঘৃণ্য নয়। হত্যা ঘৃণ্য।

অনেক টুইটার ব্যবহারকারী ড্যানিয়েলের এই পোস্টের কঠোর সমালোচনা করেন। এক ব্যবহারকারী টুইট করেন, সহিংসতা ছাড়া ধর্ষণ কী?

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লিতে চলন্ত বাসে বীভৎসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় প্যারা মেডিকেলছাত্রীকে। নির্ভয়া-কাণ্ডের পর জনরোষের মুখে আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হয়েছিল, এরপর হয়তো এ ধরনের অপরাধ কমবে। কিন্তু থেমে নেই বীভৎসতা। গত বুধবার রাতে তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে ২৬ বছরের এক তরুণী পশুচিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার বীভৎসতায় গোটা ভারত ফুঁসে উঠেছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে। এর মধ্যেই গত রোববার রাজস্থানে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ছয় বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন