‘কমিশনের উদ্দেশ্যই জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাশ্মীরের নেতাদের বৈঠক।
ফাইল ছবি

ভারতের জম্মু–কাশ্মীরের পঞ্চদলীয় জোট গুপকর অ্যালায়েন্সের শরিক পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) মঙ্গলবার জানিয়েছে, ওই অঞ্চল সফররত ডিলিমিটেশন কমিশনের সঙ্গে তারা দেখা করবে না। জম্মু–কাশ্মীরের বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাসে নিযুক্ত এই কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ভোট গ্রহণে উদ্যোগী। গুপকর জোটের পক্ষে দুদিন আগেই অবশ্য এক প্রস্তাবে জানানো হয়েছিল, তারা চায় আগে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত, পরে ভোট।

পিডিপির সাধারণ সম্পাদক গুলাম নবী লোন মঙ্গলবার ডিলিমিটেশন কমিশনের চেয়ারপারসন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে লেখা এক চিঠিতে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। তাতে ‘অসাংবিধানিক’ প্রক্রিয়ায় রাজ্য দ্বিখণ্ডিত করা ও রাজ্যের মানুষদের ‘অধিকার হরণের’ কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, এই কমিশনের অস্তিত্বই বেআইনি ও অসাংবিধানিক। কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত রূপায়ণের জন্য। সবটাই পরিকল্পনামাফিক করা হচ্ছে যাতে কোনো একটি বিশেষ দল জম্মু–কাশ্মীরের ক্ষমতায় আসতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, এই কমিশনের উদ্দেশ্যই জম্মু–কাশ্মীরের মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকের পর প্রত্যাশা মতো কেন্দ্র কিছুই করেনি। জনতার আস্থা অর্জনের কোনো চেষ্টা করা হয়নি। সবটাই ছিল লোক দেখানো। ছবি তুলে বোঝানোর চেষ্টা যে সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে। ওই বৈঠকের পর গুপকর জোট কেন্দ্রকে জানিয়ে দেয়, সবার আগে জম্মু–কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরাতে হবে। তার পর ভোট গ্রহণ।

মোদি সরকার কিন্তু আগে ভোট করাতে উদ্যোগী। এর রাজনৈতিক কারণও স্পষ্ট। অবিভক্ত জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভায় ছিল ৮৭ আসন। তার মধ্যে লাদাখের আসন ছিল ৪টি। লাদাখ ও জম্মু–কাশ্মীর দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে যাওয়ার ফলে জম্মু–কাশ্মীরের বিধানসভার আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩টি। এর মধ্য জম্মুতে রয়েছে ৩৭টি, কাশ্মীর উপত্যকায় ৪৬টি কেন্দ্র। বিজেপি চায় জম্মু ও কাশ্মীরের এই বৈষম্য ঘুচিয়ে নির্বাচনী কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে দুই অঞ্চলের আসন সংখ্যায় তারতম্য আনতে, যাতে জম্মুর প্রধান দল হিসেবে তারা কাশ্মীরও শাসন করতে পারে। পিডিপি তার চিঠিতে এই উদ্দেশ্যকেই পূর্বপরিকল্পিত আখ্যা দিয়েছে।

ডিলিমিটেশন কমিশনে পাঁচজন রাজনৈতিক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) তিনজনের আর বিজেপির দুজন। কমিশনের আগের কোনো বৈঠকে এনসি হাজির থাকেনি। এবার তারা কী করবে জানায়নি। ২০১১ সালের লোকগণনা অনুযায়ী এই কমিশন কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস করছে। যদিও সারা দেশের সর্বত্র ২০২৬ সালে তা করার কথা। গুপকর জোটের শরিকেরা সর্বদলীয় বৈঠকেও সেই দাবি জানিয়েছিল। এনসি নেতা ওমর আবদুল্লা বলেছিলেন, কাশ্মীরের আসন পুনর্বিন্যাসও সারা দেশের সঙ্গে একযোগে করা দরকার। সবার আগে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত দেওয়া।