default-image

পশ্চিমবঙ্গে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নির্বাচনী প্রচার সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল রোববার তৃণমূল জানিয়েছে, তারা আর কোনো বড় সভা করবে না। বক্তৃতাও ছোট করবে।

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে করোনার সংক্রমণ প্রতিদিন বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ এই রাজ্যে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮ হাজার ৪১৯ জন। আর মারা গেছেন ২৮ জন। এরই মধ্যে চলছে ভোটের প্রচার। রাজ্য বিধানসভার আট ধাপের মধ্যে পাঁচ ধাপের ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে।  

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় নির্বাচনী প্রচারে রাশ টানার প্রথম ঘোষণা দেয় বামদল সিপিএম। তারা ১৫ এপ্রিল ঘোষণা দিয়েছে, আর তারা এই রাজ্যে কোনো বড় ধরনের নির্বাচনী সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী মিছিল রোড শো করবে না। প্রচারে তারা জোর দেবে ছোটখাটো সভা এবং বাড়িতে বাড়িতে জনসংযোগের।

বিজ্ঞাপন

বামদলের এই ঘোষণার পর জাতীয় কংগ্রেস থেকে গতকাল এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, করোনা ভয়ংকর রূপ নেওয়ায় দলটি এখনই সব ধরনের নির্বাচনী জনসভা ও প্রচার সভা বন্ধ করে দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনী সভাও বাতিল করেছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর মুর্শিদাবাদ, মালদহসহ আরও দু–একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে রাহুল গান্ধী সব ধরনের প্রচার সভা ও জনসভা বাতিল করেছেন। তিনি বিরোধী দলকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধও করেছেন।

কংগ্রেসের পর তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচার সীমিত করার কথা জানাল। তৃণমূল জানায়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা ১৫ থেকে ২০ মিনিটে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। বলা হয়েছে, কলকাতা শহরেও আর কোনো বড় ধরনের সভা সমাবেশ নয়। সর্বত্র বক্তৃতাও হবে ছোট আকারে।

এখন এই রাজ্যে তিন দফার ভোট বাকি। সেই ভোট হবে ২২, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ২ মে। আর এই তিন দফার মধ্যে দুদফায় রয়েছে কলকাতার ভোট। সেই ভোট হবে দক্ষিণ কলকাতায় ২৬ এপ্রিল আর উত্তর কলকাতায় ২৯ এপ্রিল। এ ছাড়া এই তিন দফায় বাকি রয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার আংশিক ভোট।

নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন দল রাশ টানলেও বিজেপি এখনো এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। গতকালও দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জনসভা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সিপিএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি প্রশ্ন তুলেছেন, মোদি ও অমিত শাহের জনসভা কি মানুষের জীবনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন