default-image

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে করোনা মহামারীর মধ্যেই দুর্নীতি নিয়ে জেরবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রী গতকাল শনিবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। এ নিয়ে শাসক দলে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। 

রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে বসেন শাসকদলের দুর্নীতি নিয়ে। আম্পানের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে রাজীব বলেছেন, দলকে দুর্নীতিমুক্ত করতে গেলে শুধু চুনোপুঁটিদের সামনে এগিয়ে দিলেই দুর্নীতিমুক্ত হবেনা দল। রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজীব বলেন, দলের মধ্যে থাকা প্রচুর রাঘববোয়াল , রুই, কাতলা ,ইলিশ আছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে রাজীবের এই মন্তব্যের পর দলের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে রাজীবের করা এই মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি। আবার তেমন কেউ কেউ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দুর্নীতিমুক্ত দল করার কথা বলেছেন, তখন রাজীবের মন্তব্য সঠিকই হয়েছে। অনেকের মনে সাহস যুগিয়েছে।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়ার ডোমজুরের তৃণমূল বিধায়ক। হাওড়া জেলার তৃণমূল সভাপতি হলেন আরেক তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী অরূপ রায়। মূলত রাজীবের সঙ্গে অরূপ রায়ের দ্বন্দ্বই রাজীবকে তেতিয়ে দিয়েছে। রাজীরের কথা, যোগ্যতা অনুযায়ী দলের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছেনা।

হাওড়া জেলার তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, রাজীব তাঁর মনোভাব দলের মধ্যেই বলতে পারতেন। জানাতে পারতেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এভাবে প্রকাশ্যে বলা সমীচীন হয়নি। একই সঙ্গে হাওড়ার তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও রাজ্যের অন্যমন্ত্রী অরূপ রায় বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমে মন্তব্য করে দলবিরোধি কাজ করেছেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যাপাধ্যায়।

মূলত আম্পানের অর্থ এবং ত্রাণ নিয়ে দলের মধ্যে স্বজনপ্রীতি, গরীবদের বঞ্চিত করা, দলের প্রভাবশালী বহু নেতা ও তাঁদের বিত্তবান পরিবার পরিজনদের ত্রাণের অর্থ বিতরণ এবং ত্রাণ বিতরণ নিয়ে এই দ্বন্দ্ব শুরু। এছাড়াও এই রাজ্যে করোনা চিকিকৎসা নিয়ে নানা গাফিলতির অভিযোগ নিয়েও সোচ্চার রয়েছে রাজ্যের বিরোধিরা।

রাজ্য সরকার বারবার ঘোষণা দিলেও করোনা চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে প্রতিদিনই বহু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফলে এতে করে রোগীও মারা যাচ্ছে। গতকাল শনিবার তিন তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও ভর্তি করাতে পারছিল করোনার সন্দেহভাজন এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎকে। ১১ ঘন্টা তিন তিনটি হাসপাতাল ঘোরার পর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারলেও বাঁচানো যায়নি। রাতেই মারা যায় ওই রোগী। উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের ওই রোগী ছিল তাঁর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।

আবার গতকাল হাওড়ার শিবপুরের এক প্রবীণের করোনায় মৃত্যু হলেও ১৬ ঘন্টা পড়েছিল মৃতদেহ বাড়িতেই। সৎকারের জন্য কেউ আসছিলনা। বহু ফোন করার পর ওই মৃতদেহ নেওয়া হয় ১৬ ঘন্টা পর সৎকারের জন্য।

অন্যদিকে দিল্লি থেকে ফেরা এক গৃহবধূ ও তার ছেলেকে হাওড়ার রাজাপুর এলাকার তাঁর নিজের বাড়িতে এলাকাবাসী ঢুকতে না দিলে ওই গৃহবধূ ও তার ছেলে নিকটবর্তী শ্মশানঘাটে রাত কাটায়। খবরটি পুলিশের নজরে যাওয়ার পর সকালে পুলিশ এসে ওই গৃহধূ ও তাঁর ছেলেকে নিজ বাসভবনে কোয়ারিন্টনে রাখার ব্যবস্থা করে দেয়।

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে
করোনা সংক্রমণ থামার লক্ষ্মণ নেই পশ্চিমবঙ্গে । প্রতিদিন বাড়ছে আর গড়ছে নতুন নতুন রেকর্ড। গত ২৪ ঘন্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ হয়েছে ১ হাজার ৩৪৪। মারা গেছে ২৬ জন। ফলে এখন পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৯০৬ আর আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ৪৫৩ জন। এই নিয়ে শুধু কলকাতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮৬ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ১৫৪ জন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রী ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার লক্ষীরতন শুক্লার স্ত্রী স্মিতা সান্যাল শুক্লা গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারিন্টনে রয়েছেন। শুক্লা রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে করোনা বেড়ে চলায় বেড়েছে কলকাতাসহ এই রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যাও। গতকাল এই জোনের সংখ্যা ৪৬১ থেকে বাড়িয়ে ৪৭৭ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন