default-image

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে রাজনীতি। দুই শক্তিশালী রাজনৈতিক দল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে শুরু হয়েছে বাগ্‌যুদ্ধ। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে করোনা, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও সবশেষ চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের কারণে নির্বাচনের সব প্রচার কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে। 

সম্প্রতি রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘এবার এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বদলও হবে, বদলাও হবে।’ মূলত তৃণমূলের ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচার ‘বদল চাই, বদলা নয়’ স্লোগানকে পরিবর্তন করে তিনি এ কথা বলেন।

দিলীপ ঘোষ বলেন, এই রাজ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে বদল আনা হবে ক্ষমতার। একই সঙ্গে বদলাও নেওয়া হবে। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে যেভাবে বিজেপির নেতা–কর্মীর ওপর নির্যাতন, হত্যালীলা চালিয়ে গেছে, থানাকে দলীয় অফিস করে রাজনীতি চালিয়েছে, এর জবাব দেবে রাজ্যবাসী।

গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘হিংসা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো দিন কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। কাপুরুষেরাই ক্ষমা করার কথা বলে।’ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের থানাগুলো এখন তৃণমূলের পার্টি অফিস হয়ে গেছে। মানুষ আর মমতাকে চাইছে না। চাইছে পরিবর্তন। চাইছে বিজেপিকে। বিজেপিই এই রাজ্যে একুশের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে।’

দিলীপ ঘোষের হিংসার রাজনীতিকে অবশ্য সমর্থন দেননি রাহুল সিনহা ও মুকুল রায়ের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতা।

দিলীপ ঘোষের ওই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান মুখ্য প্রশাসক এবং পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। গতকাল সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ওরা তো একটা সন্ত্রাসবাদী দল। জঙ্গিদের মতো কথা বলছে ওরা। তালেবানের মতো খুনের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি। এটা গণতন্ত্রের সুস্থতার লক্ষণ নয়। ওরা চাইছে বাংলায় সন্ত্রাসের মাধ্যমে আগুন জ্বালাতে। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে। কিন্তু বাংলার মানুষ তা করতে দেবে না। বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। বাংলার মানুষ ফের তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনবে। মমতাই ফের হবেন ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী। তাই যতই বিজেপি বদল হওয়ার আর বদলা নেওয়ার স্লোগান দিক, ওদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0