default-image

ভারতে গতকাল শুক্রবার রেকর্ড চার লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মহামারির শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে কোনো দেশে এক দিনে এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫২৩ জন করোনায় মারা গেছেন বলে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতে এই প্রথম এক দিনে চার লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন। এর আগে টানা নয় দিন ধরে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখের বেশি। দেশটিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে তিন সপ্তাহ আগে প্রথমবারের মতো দৈনিক আক্রান্ত এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ডটি এর আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। গতকাল ভারতে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৪ লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গত এপ্রিল মাসে ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। গত মাসে ভারতজুড়ে ৬৯ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। এক মাসেই মারা যান প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

default-image

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট মৃত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৩। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩৫ জন লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার থেকে তৃতীয় ধাপের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে ভারত। এদিন থেকে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। তবে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, রাজস্থান, ঝাড়খন্ড ও পাঞ্জাবের রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তাদের টিকার সংকট রয়েছে। ফলে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। যদিও দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, রাজ্যগুলোর কাছে এখনো এক কোটি ডোজের বেশি টিকা মজুত আছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কেরালা, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানাতেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দেশটিতে সংক্রমণের এই ‘বিস্ফোরণের’ জন্য করোনার ভারতীয় ধরনকে অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে।

ভারতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটি তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, জরুরি ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম।

default-image

দেশটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। শুধু অক্সিজেনের অভাবে অনেক রোগী মারা গেছেন। বিদেশ ও দেশের অন্য এলাকা থেকে অক্সিজেন এনে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভারতের করোনা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা জরুরি চিকিৎসাসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বিদেশি সহায়তা ভারতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন