বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহামারির প্রভাবে অতিরিক্ত কত মানুষ মারা যেতে পারেন, তার একটি হিসাব অনেক দেশেই হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তর অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম যারা এই হিসাব করেনি। ভারতের এই কাজটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট। মহামারির কারণে বাড়তি মৃত্যুর তালিকায় কারা থাকছেন এই হিসাব করতে গবেষকেরা তিনটি সূত্রের তথ্য ব্যবহার করেছেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত এসব তথ্য নেওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য সূত্রের একটি হলো, ভারতে বার্ষিক মৃত্যুর হিসাব। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ থেকে সাতটি রাজ্যের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এই সাতটি রাজ্যের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের সমান। ফলে সাত রাজ্যের হিসাব থেকে একটি পূর্বানুমান করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক তথ্য, করোনায় মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা সংগ্রহ করেছেন গবেষকেরা। এ ছাড়া সেরোলজিক্যাল সার্ভে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে করোনায় মৃত্যুর একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে।

এ ছাড়া আরেকটি ভোক্তা জরিপ চালানো হয়েছে। এই জরিপে অংশ নিয়েছেন ৮ লাখ ৬৮ হাজার ব্যক্তি। ১ লাখ ৭৭ বাড়িতে গিয়ে সেই জরিপ চালানো হয়েছে। এতে জরিপের অন্যতম প্রশ্ন ছিল, বিগত চার মাসের মধ্যে তাদের পরিবারের কেউ মারা গিয়েছেন কি না।

এই তিন সূত্র থেকে পাওয়া সব তথ্য এক করে গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ভারতে সরকারি হিসাবের বাইরে মৃতের সংখ্যা ৩৪ থেকে ৪৭ লাখের মধ্যে। যা সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ভারতের মৃত্যুর যে হিসাব দিচ্ছে তা রোগতত্ত্ববিদদের দেওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি। রোগতত্ত্ববিদদের ধারণা, সরকারি হিসাবের তুলনায় ভারতে করোনায় মৃত্যু ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি।

এ প্রসঙ্গে ভরত সরকারের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান বলেন, যারা মারা গেছেন তারা সবাই যে কোভিড-১৯-এ মারা গেছেন এমনটা নয়। এ ছাড়া কোভিড-১৯ হয়ে ঠিক কতজন মারা গেছেন এটাও নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের গবেষণার অন্যতম লেখক অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান। তিনি বলেন, এই গবেষণায় যে চিত্র উঠে এসেছে তা অনুসারে, ভারতে করোনায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তিনি বলেন, করোনায় ভারতে মৃত্যু লাখ নয়। এটা কয়েক মিলিয়ন (১০ লাখ)। স্বাধীনতা ও দেশভাগের পর ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন