রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম গতকাল বলেছেন, ‘বাংলার মানুষকে এভাবে বোকা বানানো যায় না। বাংলার মানুষ জানেন, এই রেলপথ তৈরির মূল পরিকল্পনা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতার। তিনিই এই রেলপথের প্রকল্প অনুমোদন করেছিলেন। তখন মমতাদি ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী।’

ফিরহাদ হাকিম বলেন, রেলপথ নির্মাণে প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি দেওয়া থেকে নানা সমস্যা মিটিয়েছিলেন তিনি। তারপরও সৌজন্যবোধের এই অভাব এমনভাবে দেখা দিল?

ফরিহাদ মনে করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁর কথা, ‘কেন্দ্রীয় সরকার যদি এভাবে অসহযোগিতা করে, তবে রাজ্যের পক্ষে কি সহযোগিতা করা সম্ভব?’

তবে এই নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ দপ্তর থেকে শুধু বলা হয়েছে, কাল থেকে শিয়ালদহ-সেক্টর ফাইভের মধ্যে চলাচল শুরু করবে মেট্রোরেল। বৃহস্পতবিার থেকে এই পথে যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন। এই মেট্রোরেল এবার কলকাতার যানজটের চিত্র পাল্টে দিতে সক্ষম হবে।

কলকাতা মেট্রো বা পাতালরেলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সাল থেকে। রাশিয়া ও জার্মানির প্রকৌশলীরা ১৯৬৯ সালে প্রথম তৈরি করেছিলেন এই রেলপথ তৈরির নকশা। ১৯৭১ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। প্রথম তৈরি হয় ধর্মতলা থেকে ভবানীপুর (বর্তমান নেতাজি ভবন) পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ। ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রথম এই পথের মেট্রোরেলের উদ্বোধন হয়। তার পর থেকে এই রেলপথের নির্মাণকাজ চলতে থাকে। একসময় মেট্রোলের চলাচল শুরু করে কলকাতার দমদম স্টেশন থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত। তারপর সেই পথের দূরত্ব বড়ানো হয় দমদম থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত। আর টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া পর্যন্ত। তারপর রেলপথ বাড়ানো হয়েছে এই দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত।

এই মেট্রোরেলপথ বাড়ানোর জন্য ছয়টি জোন তৈরি করা হয়েছে। এসব জোনে রেলপথ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। এই রেলপথের মধ্যে রয়েছে হাওড়া নদীর নিচ থেকে রেলপথ তৈরি করে তা হাওড়ায় পৌঁছানো। নদীর তলের টানেলের নির্মাণকাজও সমাপ্ত হয়েছে। রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ব্যারাকপুর, বারাসাত, মধ্যমগ্রামের মধ্যেও। সেসব রেলপথের নির্মাণকাজ চলছে। কাল এই মেট্রোরেলের দ্বিতীয় পথ শিয়ালদহ-সেক্টর ফাইভের মধ্যে চালু করা হচ্ছে মেট্রো চলাচল।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন