default-image

শহর অঞ্চলের মানুষ বিজেপির প্রতি একেবারেই সমর্থন জানায়নি। রাজধানী কলকাতাসহ আশপাশের জেলায় বিজেপির কোনো আসন না পাওয়া সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের ২৩ জেলার ৬টিতে একটি আসনও পায়নি সর্বভারতীয় দলটি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে গতকাল রোববার। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি আসনের প্রার্থীর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচন হয়নি। এ দুই আসনের নির্বাচন হবে ১৬ মে।

এবারের এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আশাতীত ফল করেছে। ২১৩টি আসনে জিতেছে। আর বিজেপি জিতেছে ৭৭টি আসনে। একটি আসন গেছে কংগ্রেস-বাম জোটের শরিক ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএসের থলিতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গর আসনে জিতেছেন আইএফএসের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। আর একটি আসন গেছে কালিম্পংয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুডেন লেপচার থলিতে। বাকি ২৯০টি আসনে জিতেছে তৃণমূল ও বিজেপি।

তবে এবারের এই নির্বাচন সব আসন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাম ও কংগ্রেস দল। তারা একটি আসনেও জিততে পারেনি। এটাই ঐতিহাসিক রেকর্ড। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় কংগ্রেস ও বাম দলের কোনো সদস্যই ঢুকতে পারলেন না।

রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে বাম দল ও কংগ্রেস শূন্য হাতে ফিরেছে। আবার বিজেপি ছয়টি জেলায় একটি আসনও পায়নি। জেলাগুলো হলো হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং ও সংযুক্ত কলকাতা জেলা।

বিজ্ঞাপন

আবার তৃণমূলও তিনটি জেলায় একটি আসনও পায়নি। এই তিনটি জেলা হলো দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ার জেলা। অন্যদিকে, কালিম্পং ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় দুটি আসন পেয়েছে একজন স্বতন্ত্র ও আর একজন আইএসএফ প্রার্থী।
তৃণমূল কংগ্রেস হাওড়ার ১৬টি আসন, পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসন এবং সংযুক্ত কলকাতার ১৭টি আসনের সব কটিতে জয়ী হয়েছে।

জেলার হিসাবে দেখা যায়, তৃণমূল সংযুক্ত কলকাতায় ১৭টি, হাওড়ার ১৬টি, উত্তর ২৪ পরগনার ২৮টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২৪টি, পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি, পশ্চিম বর্ধমানের ৬টি, হুগলির ১৪টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ১০টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৩টি, নদীয়ার ৮টি, মুর্শিদাবাদের ১৭টি, জলপাইগুড়ির ৩টি, কোচবিহারের ২টি, উত্তর দিনাজপুরের ৭টি, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৩টি, মালদহের ৮টি, ঝাড়গ্রামের ৪টি, বীরভূমের ১০টি, বাঁকুড়ার ৪টি এবং পুরুলিয়ার ৩টি আসনে জয়ী হয়।

বিজেপি জয়ী হয় উত্তর ২৪ পরগনার ৫টি, পশ্চিম বর্ধমানের ৩টি, হুগলির ৪টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ২টি, নদীয়ার ৯টি, মুর্শিদাবাদের ৩টি, জলপাইগুড়ির ৪টি, দার্জিলিংয়ের ৫টি, কোচবিহারের ৭টি, উত্তর দিনাজপুরের ২টি, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৩টি, মালদহের ৪টি, আলিপুরদুয়ারের ৫টি, বীরভূমের ১টি, বাঁকুড়ার ৮টি এবং পুরুলিয়ার ৬টি আসনে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন