বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলকাতা শহরকে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকার কারণেই তৃণমূল ইচ্ছামতো ভোট করতে পেরেছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছে।

একাধিক বুথ থেকে বিজেপি তার অভিযোগ একত্র করে প্রচারমাধ্যমের সামনে এনেছে। অনেক ক্ষেত্রেই কী ধরনের অরাজকতা হয়েছে, তার স্থির ও ভিডিও চিত্র বিজেপি সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপিত করতে পেরেছে এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে।

একই অভিযোগ বামপন্থীদের। যে ওয়ার্ডগুলো তারা বরাবর জিতে আসছে, সেগুলোও তাদের জেতার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সিস্ট) দলের বুথের কর্মীরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

২০১৫ সালের কলকাতা পুর করপোরেশন নির্বাচনে ১৫টি আসন পেয়েছিল বামপন্থীরা। এবারও তারা ভালো ভোট পাওয়ার আশা করেছিল, কারণ বিজেপির অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু আজকের নির্বাচনের পর সে সম্ভাবনা আর রইল না বলে তারা মনে করছে। অনেক জায়গাতেই বামফ্রন্টের প্রার্থী ও কর্মীরা আজ রোববার আক্রান্ত হন। সিপিআইএমের এক প্রার্থী শিখা পূজারী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাপক হারে মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং সেই সব ভোট দিয়েছে। যে যা খুশি করেছে। একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছে, এই ভোটের কোনো মানে নেই।

কোন কোন বুথে ভোট লুট হয়েছে, তার এক দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে বেলা একটা থেকে পথে নেমে বিক্ষোভ করে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূল পুলিশ ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রয়াসে গণতন্ত্রের প্রহসন হয়েছে। গণতন্ত্রের নামে যে নোংরা খেলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা পথে নামতে বাধ্য হয়েছি।’

এদিকে উত্তর কলকাতায় বোমা পড়েছে এবং এক প্রার্থী মীনাদেবী পুরোহিতকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। তবে বিজেপির এ অভিযোগের তালিকা এতই দীর্ঘ যে কমিশন কত দূর ব্যবস্থা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বেরই সন্দেহ রয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, যদি কেন্দ্র সরকার হস্তক্ষেপ না করে, তবে কিছুই হবে না। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কিছুই করবে না এবং অভিযোগের এ পাহাড়ে চুপচাপ বসে থাকবে। নির্বাচন স্বীকৃতি পাবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস শহর শাসন করবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধানসভায় দলের উপ-মুখ্য সচেতক তাপস রায় বলেছেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কলকাতা পুরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমানে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ‘ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন