বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ৭৭টি আসন পেয়েছিল। কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচনে তারা জিতেছে মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে। ভোটের চূড়ান্ত হার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। কিন্তু বিজেপির ভোট সম্ভবত থাকবে ১০ শতাংশের নিচে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। অর্থাৎ পৌর নির্বাচনে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি কলকাতা শহরে অবস্থান হারালো। বস্তুত ভারতে ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির উত্থান ঘটেনি, তখন ২০১০ সালে কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল তিনটি আসন। ২০২১ সালের পৌর করপোরেশনের নির্বাচনেও তারা পেল সেই তিনটি আসনই। ২০১৫ সালের পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে পাওয়া সাত আসনও বিজেপি ধরে রাখতে পারল না।

অন্যদিকে ১৪৪–এর মধ্যে ১৩৪ (চূড়ান্ত নয়) ওয়ার্ড জেতার পাশাপাশি তৃণমূলের ভোটের হার কলকাতায় চলে গেল ৭০ শতাংশের ওপরে। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৪৮ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ তৃণমূলের প্রায় কোনো শক্ত বিরোধী পক্ষই রইল না কলকাতা পৌরসভায়।

বামপন্থীরা এগোল অনেকটাই

২০১৯-এর লোকসভা ও ২০২১-এর বিধানসভায় বামপন্থীরা পশ্চিমবঙ্গে একটি আসনও পায়নি। কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচনে বামপন্থীরা শুধু দুটি ওয়ার্ডই পেল না, তাদের ভোটের হারও চলে গেল ১১ শতাংশের ওপরে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ভোট ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ কলকাতায় সিপিআইএমসহ (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া-মার্ক্সিস্ট) বামফ্রন্ট বিজেপির থেকে বেশি ভোট পেল। গত ১০ বছরে এই প্রথম বিজেপির থেকে মুখ ঘুরিয়ে কলকাতাবাসী আবার ভোট দিলেন বামপন্থীদের। বস্তুত ভোটের হিসাবে ১৪৪ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৫টিতে তৃণমূলের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামপন্থীরা আর ৫৪টিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। তবে ২০১৫ সালে শেষ পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে বামপন্থীরা ১৫টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছিল। সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ভোট কারচুপি করা না হলে তাঁরা আরও বেশি ভোট পেতেন। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে আবার দ্বিতীয় স্থানে চলে যেতে পারে বিজেপি, কারণ বড় নির্বাচনে লড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য বা পরিকাঠামো এখন বামদের নেই।

ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিধানসভায় বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে ‘অভিনন্দন’ বুথের ভেতরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা অকেজো করে রাখা, ত্রুটিপূর্ণ ভোট যন্ত্র দিয়ে ভোট করিয়ে তৃণমূলকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য এবং পুলিশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখ না খোলার জন্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন