সংসদে কৃষিমন্ত্রীর এ জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত কিষান মোর্চার (এসকেএম) পক্ষে কৃষকনেতা হান্নান মোল্লা বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, যে কৃষিমন্ত্রী কৃষক মৃত্যুর খবর জানেন না, তাঁর মন্ত্রী হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।

কোভিডের বাড়াবাড়ির সময় অক্সিজেনের অভাবে সংক্রমিত ব্যক্তিদের মৃত্যুর খবরও সরকারের জানা ছিল না। চলতি বছরের মাঝামাঝি কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় সারা দেশে অক্সিজেনের অভাবে মহামারিতে আক্রান্ত বহু রোগীর মৃত্যু ঘটেছিল। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জুলাই মাসে সরকার সংসদে জানিয়েছিল, স্বাস্থ্যের বিষয়টি রাজ্যের তালিকাভুক্ত। ফলে কেন্দ্রের কাছে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোনো খবর নেই। এই বিবৃতির দরুন সরকারকে পড়তে হয়েছিল তুমুল সমালোচনার মুখে। এবার কৃষকের মৃত্যু নিয়েও সরকার সমালোচনা এড়াতে পারছে না। আন্দোলনকারী নেতাদের দাবি, কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সারা দেশে গত দেড় বছরের আন্দোলনে বলি হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭০০ কৃষক। নিহত এই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ কৃষি আন্দোলন প্রত্যাহারের অন্যতম শর্ত।

এক বছর ধরে দিল্লির তিন সীমান্তে হাজার হাজার কৃষক শান্তিপূর্ণ অবস্থান সত্যাগ্রহ করছেন। কৃষকনেতাদের দাবি, প্রচণ্ড শীত, গ্রীষ্মের প্রখরতা, ঋণের বোঝা, অবসাদে আত্মহত্যা ইত্যাদি নানা কারণে আন্দোলন চলাকালে সাড়ে ৭০০ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে এসকেএম সরব। সরকারের কাছে যে দাবি তাঁরা পেশ করেছেন, তাতে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিশ্চিত করতে আইন, নিহত কৃষকদের পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বন্দীদের মুক্তিদানের মতো বিষয় রয়েছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন এটা স্পষ্ট, সরকার নিহত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দায় আদৌ নিতে চাইছে না।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষকদের আন্দোলন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, এমএসপি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার এক কমিটি গড়বে। সেই কমিটিতে থাকার জন্য পাঁচ প্রতিনিধির নাম দিতে কৃষিমন্ত্রী গত মঙ্গলবার কৃষকনেতাদের বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই মৌখিক বার্তাকে কৃষকনেতারা একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে হান্নান মোল্লা বলেন, কৃষিমন্ত্রী বেছে বেছে কয়েকজন নেতাকে ফোন করে এ বার্তা দিয়েছেন। এভাবে তাঁরা কৃষক আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছেন। এসব না করে তিনি যেন আনুষ্ঠানিকভাবে এসকেএমকে চিঠি লিখে নাম পাঠানোর বার্তা দেন।

কমিটি গঠিত হলে এর আলোচ্যসূচি কেমন হয়, কৃষকনেতারা তা–ও দেখতে আগ্রহী। সরকার বারবার বলেছে, এমএসপি ছিল, আছে ও থাকবে। কিন্তু তার আইনি অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। কৃষকনেতারা আবার তা না পেলে আন্দোলন প্রত্যাহারে প্রস্তুত নন। এসকেএম দেখতে চায়, নতুন কমিটি এমএসপি গঠনের আলোচনায় কতটা আন্তরিক। সেই অনুযায়ী তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন