কেরালায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৮–তে পৌঁছেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পাইলট রয়েছেন।

নিহত দুই পাইলট হলেন উইং কমান্ডার দীপক বসন্ত সাথে ও ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমার। দীপক ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ছিলেন।

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইটে যোগ দেওয়ার আগে দীপক এয়ার ইন্ডিয়ার অনেক ফ্লাইট পরিচালনা করেন। কো-পাইলট অখিলেশ কুমার গত বছর বিয়ে করেছিলেন।

ভারতের কেরালা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কোঝিকোড়ে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুবাই থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে দুই টুকরা হয়ে যায়। ওই সময় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (ডিজিসিএ) এক তদন্ত কর্মকর্তা এএনআইকে জানান, আবহাওয়ার রাডার অনুযায়ী উড়োজাহাজটির রানওয়ে ২৮–এ অবতরণের কথা। কিন্তু পাইলট জটিলতার কারণে বিপরীত দিকের ১০ নম্বর রানওয়ে দিয়ে দুবার ঘুরে আসেন। অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

সিভিল এভিয়েশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি পুরো গতিতে চলছিল। উড়োজাহাজটি রানওয়ের কিনারা দিয়ে চলে এবং পড়ে যায়।

বিধ্বস্ত হওয়ার সময় আগুন না ধরায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে উড়োজাহাজটি। উড়োজাহাজের ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। আসনের নিচ থেকে শিশুদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

উড়োজাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী রিয়াস পিটিআইকে বলেন, ‘অবতরণের আগে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে দুবার প্রদক্ষিণ করে। আমি পেছনের আসনে ছিলাম। বড় ধরনের গোলমাল শুরু হয়। এরপরে কী ঘটেছে আমি জানি না।’

সারজা ও দুবাইতে সাহায্য সংস্থা খোলা হয়েছে। আহত অনেক যাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে।

কোঝিকোড় বিমানবন্দর পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। বিমানবন্দরে রানওয়ের জায়গা সীমিত। এটি কেরালার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টার্মিনাল। এখানে বিদেশ থেকে অনেক ফ্লাইট আসে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় শোক জানান।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, উড়োজাহাজে ১৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও চারজন কেবিন ক্রু। অনেক যাত্রীই করোনার সংক্রমণের কারণে চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কেরালা পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটিতে ১৯০ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১৮৪ জন যাত্রী, ২ জন পাইলট ও ৪ জন কেবিন ক্রু।

খবরে জানানো হয়, দুর্ঘটনাকবলিত ফ্লাইটটি ‘বন্দে ভারত’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল। এই কর্মসূচির আওতায় করোনার মহামারিতে বিদেশে আটকা পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজের বেশির ভাগ আরোহীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আহত অন্তত ১১২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন