বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই উত্তর স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্ত করেছে রাজ্যের মানুষকে। তবে কয়েক লাখ বিঘার বেশি জমি আসামে বেদখল হয়ে রয়েছে আর এই দখল মূলত করেছে প্রতিবেশী রাজ্যগুলো, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা তাদের নাগরিকেরা নন।

বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকীয়াকে গত শুক্রবার এক লিখিত জবাবে আসামের রাজস্বমন্ত্রী যোগেন মোহন বলেছেন, জেলার ডেপুটি কালেক্টরদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটা বলা যায় যে কোনো বিদেশি আসামের জমি দখল করেননি। কয়েক লাখ বিঘার কিছু বেশি বনভূমি ও রাজস্ব আদায় হয়, এমন জমি দখল করে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেশী রাজ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১ লাখ ৪৩ হাজার বিঘা জমি রয়েছে প্রতিবেশী নাগাল্যান্ডের দখলে।

এরপরই সবচেয়ে বেশি জমি রয়েছে অরুণাচল প্রদেশের দখলে—৮১ হাজার ৬৮৮ বিঘা। মিজোরাম ও মেঘালয়ের দখলে রয়েছে যথাক্রমে ১৮ হাজার ও ৪ হাজার বিঘার কিছু বেশি জমি। গত ৫০-৬০ বছরে আসাম রাজ্য ভেঙে এই রাজ্যগুলো গঠন করা হয়েছে। তাই তাদের মধ্যে সীমানা নিয়ে বিবাদ রয়েছে। বস্তুত, এমন অনেক ভূখণ্ড রয়েছে, যা দুই রাজ্যই নিজের বলে দাবি করে। এ কারণে ২০২১ সালে রাজ্যগুলোর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী মারাও গেছেন।

রাজস্বমন্ত্রীর বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন আসাম হাইকোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আইনজীবী বলেন, বিষয়টি শুধু তাৎপর্যপূর্ণই নয়, অত্যন্ত বিভ্রান্তিকরও বটে।

ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে বলে আসা হচ্ছে, আসামে বিদেশিরা এসে জমি দখল করছেন এবং বসবাস করছেন। এ রাজ্য ও ভারতের রাজনীতি অনেকটাই আবর্তিত হচ্ছে এ ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে বাঙালি ও মুসলমানরা আসামের জমি আইনবহির্ভূতভাবে দখল করছে। এ ধারণার ভিত্তিতে আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, বিদেশি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। অথচ রাজ্যের বিধানসভায় রাজস্বমন্ত্রী বলছেন, বিদেশিদের হাতে কোনো জমি নেই। তাহলে কি আগে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছিল, না এখন বলা হচ্ছে?—প্রশ্ন ওই আইনজীবীর।

আসামে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এতে মারা যাচ্ছেন অনেকে এবং তাঁদের প্রায় সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানকে পুরোপুরিভাবে সমর্থনও করছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন