বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোভিশিল্ড টিকাপ্রাপ্তদের যুক্তরাজ্য এখনো সে দেশে বিনা বাধায় ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি। এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুসের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের অবসরে কথা বলেছেন।

শ্রিংলা বলেন, সিদ্ধান্তটি যে বৈষম্যমূলক, সে কথা যুক্তরাজ্যকে জোরের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন। এ-ও বলেছেন, কোভিশিল্ডকে অনুমোদন দেওয়া না হলে ভারতেরও অধিকার থাকবে অনুরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের। শ্রিংলা বলেন, বিষয়টির মীমাংসা হবে বলে আশ্বাস যুক্তরাজ্য দিয়েছে।

বস্তুত প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোভিড ও তাঁর টিকা প্রসঙ্গ আলোচনার একটি বড় বিষয়। জাতিসংঘের আসর ছাড়াও চারদেশীয় জোট কোয়াডের শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি আলোচিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগেই ভারত উদ্বৃত্ত টিকা নতুন করে রপ্তানি শুরু করার কথা জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমবার সেই ঘোষণা করেছেন। তার উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, এখন ভারতে টিকা উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রাও পূর্ণ হবে। এই পরিস্থিতিতে ভারত উদ্বৃত্ত টিকা প্রতিবেশীদের দেবে ঠিক করেছে। অন্যান্য দেশেও পাঠানো হবে।

কোভিশিল্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত ভারত কেন মানতে পারছে না, শ্রিংলা তার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটেনের সংস্থা অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার লাইসেন্স নিয়ে ভারতীয় সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত হয়েছে কোভিশিল্ড। রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আগে ৫০ লাখ কোভিশিল্ড টিকার ডোজ ভারত সরকারিভাবে ব্রিটিশ সরকারকেও পাঠিয়েছিল। সেই টিকা নিশ্চিতভাবেই সে দেশের নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোভিশিল্ডকে অনুমোদন না দেওয়ার যুক্তি তাই সারবত্তাহীন।

পর্যটকদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন নিয়মে কোভিশিল্ডের দুটি টিকা নিয়ে সে দেশে কেউ গেলে তাঁকে ১০ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। লিজ ট্রুসকে সেই আপত্তির কথাই দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকের পর টুইট করে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, পারস্পরিক স্বার্থেই কোয়ারেন্টিনের বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।’

বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, পররাষ্ট্রসচিব শ্রিংলাসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন। চার রাষ্ট্রনেতার এটাই হবে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎকার। এ ছাড়া মোদি অংশ নেবেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাধারণ বৈঠকেও।

কোভিড পরিস্থিতিতে মোদি শুধু বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সাগর পাড়ি এই প্রথম।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে মোদি আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাইডেনের সঙ্গে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে এটাই হবে মোদির প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। মোদি বৈঠক করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গেও। এই সফরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মধ্যে বড় হয়ে উঠবে কোভিড মোকাবিলা, আফগানিস্তান ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গ। জাতিসংঘের সম্মেলনের অবসরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু জানানো হয়নি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন