বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এত দিন ১২ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল একমাত্র জাইডাস ক্যাডিলাকে। গুজরাটের এই সংস্থা সেই অনুমোদন পেয়েছিল গত মাসে। জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি প্রতিষেধক‘ জাইকভ-ডি’ ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছিল। সেই টিকা দেওয়ার কথা তিনটি করে। তুলনায় কোভ্যাক্সিন পেল ২ থেকে ১২ বয়সীদের জন্য অনুমোদন। ডোজের সংখ্যা দুই। শিশু ও কিশোরদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোভ্যাক্সিনই প্রথম অনুমোদন পেল।

ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, এই টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। অক্টোবরের প্রথম দিকে সেই পরীক্ষার ফল তারা ডিসিজিআইয়ের কাছে জমা দেয়। পরীক্ষা ও তার ফলের বিচার করে মঙ্গলবার তাদের এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোভ্যাক্সিন এই অনুমোদন পেলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিন্তু এখনো এই টিকাকে আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কোভ্যাক্সিনের দুটি ডোজ পাওয়া কেউ এখনো ইউরোপ ও আমেরিকায় বিনা বাধায় সফর করতে পারেন না। এই টিকা প্রাপকদের ওই সব দেশে বাধ্যতামূলক নিভৃতাবাসে থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি ‘কোভিশিল্ড’কেও মান্যতা দেবে না জানিয়েছিল। এই টিকা নিয়ে সফর করা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তারা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ভারত এর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ায় যুক্তরাজ্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। কিন্তু কোভ্যাক্সিন নিয়ে ‘ডব্লিউএইচও’ ছাড়াও অন্য বহু দেশের দোলাচল অব্যাহত। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, তারা কোভ্যাক্সিন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ‘ডব্লিউএইচও’র কাছে পাঠিয়েছে গত ৯ জুলাই। ডব্লিউএইচও আপাতত তা বিবেচনা করে দেখছে। বিশেষ করে বিবেচনা করছে শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে।

ভারতে কোভিডের দুটি ডোজ নিয়েছেন প্রায় ৩০ কোটি মানুষ। ৬০ কোটিরও বেশি পেয়েছেন একটি ডোজ। বর্তমানে সংক্রমণ যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার শিশু ও কিশোরদের টিকা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান এন কে অরোরা। রাজ্যে রাজ্যে স্কুল খোলার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারের তাগিদের অন্যতম প্রধান কারণও এটি। তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই কারণে শিশুদের টিকাকরণের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে বলে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস এর পরিচালক রণদ্বীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন