ক্যানসার ইনস্টিটিউটের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করলেন মোদি, মমতা বলছেন আগেই হয়েছে

ভার্চুয়ালি হাসপাতাল উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী বোতাম চেপে হাসপাতালের উদ্বোধর করেন
ছবি: এএনআই

ক্যানসারের আধুনিক চিকিত্সার জন্য কলকাতায় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি ভার্চ্যুয়ালি সল্টলেকের নিউটাউনে নতুন এ ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন। অথচ সেই একই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দাবি করেন, এই ক্যাম্পাসের উদ্বোধন রাজ্য সরকার আগেই করেছে।

প্রথম ক্যাম্পাসটি রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার এসপি মুখার্জি রোডে। ক্যানসার ইনস্টিটিউটের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পর ভাষণ দেন মোদি। তিনি জাতির উদ্দেশে এই ক্যাম্পাসটিকে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, কলকাতায় এই ক্যানসার হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ায় এ অঞ্চলের রোগীরা সর্বাধুনিক সুবিধা পাবেন। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তরা সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাবেন। হাসপাতালে উন্নত মানের ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা থাকবে। ১০টি সর্বাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকবে। বহির্বিভাগে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ২৪টি কনসালটেশন কক্ষ থাকবে। রোগীর আত্মীয়দের থাকার ব্যবস্থা থাকবে।

মোদি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে করোনা টিকার ১১ কোটি ডোজ পাঠিয়েছে। দেশে টিকার ১৫০ কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ৫০০টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছে। গড়া হয়েছে ৪৯টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট।

কলকাতায় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দুই প্রতিমন্ত্রী নিশীথ অধিকারী ও শান্তনু ঠাকুর, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মনসুখ মন্দাভিয়া, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ।

এর আগে সেখানে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটির উদ্বোধন আগেই করেছিল। ক্যাম্পাস নির্মাণে খরচ হওয়া ৫৩০ কোটি রুপির ৪০০ কোটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকিটা দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ১১ একর জমি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মমতা আরও বলেন, রাজ্য সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য এই ক্যাম্পাসে সেফ হোম তৈরি করেছিল। এই হাসপাতাল নির্মাণের ফলে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর ক্যানসার রোগীরা চিকিৎসায় সর্বাধুনিক সুবিধা পাবেন। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্যানসার চিকিৎসায় এই হাসপাতাল নতুন দিক খুলে দেবে।