পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় চার বাংলাদেশিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন কলকাতার একটি আদালত। সাজা খাটার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোরও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার আদালতের বিশেষ বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাকি ১৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় থেকে এ সাজা কার্যকর হবে।

সাজাপ্রাপ্ত চার বাংলাদেশি হলেন: শেখ রহমতউল্লাহ ওরফে বুরহান শেখ, লিয়াকত আলী প্রামাণিক ওরফে রফিকুল, হাবিবুর রহমান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ও সাদিক ওরফে রেহান শেখ। অন্য ১৫ আসামির মধ্যে দুজনকে ১০ বছর করে, ১০ জনকে ৮ বছর করে এবং তিনজনকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। নারী আসামি আলিমা ও গুলশান বিবিকে দেওয়া হয়েছে ছয় বছর করে কারাদণ্ড। চার বাংলাদেশি ছাড়া অন্য আসামিরা ভারতের নাগরিক এবং তাঁদের সবাই মুসলিম। গত বুধবার বিচারক কাঞ্জিলাল ১৯ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

আজ ওই রায় ঘোষণার আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনার দোষ স্বীকার করে আসামিরা আদালতকে বলেন, তাঁরা জীবনের মূলধারায় ফিরতে চান। থাকতে চান পরিবার–পরিজন নিয়ে। তাই শাস্তি লঘু করার আবেদন জানান তাঁরা। তবে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) আইনজীবী আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চান। দোষ স্বীকার করে নেওয়া এবং জীবনের মূলধারায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের বিষয়টি বিচেনায় নিয়ে আসামিদের সাজা অনেকটা লঘু করেন বিচারক কাঞ্জিলাল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্য ১৯ জন আসামি দোষ স্বীকার করেন। বাকি ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা চলবে বলে জানান বিচারক।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াখড়ের একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়। এ বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। এ মামলায় একটি অভিযোগপত্র এবং চারটি অতিরিক্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ৮০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিস্ফোরক আইন, অস্ত্র আইন, পাসপোর্ট আইন, ফরেনার্স আইনসহ অন্যান্য আইনের বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0