প্রধান বিচারপতি রমনা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, সরকারের দুই বিভাগের ঝগড়া কেন আদালতে পৌঁছায়, তা বোধগম্য হয় না। এতে বিচার বিভাগের ওপর অনর্থক চাপের সৃষ্টি হয়। জমি বিবাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের সমস্যার সমাধান পঞ্চায়েত স্তরে হয়ে গেলে আদালতে আসার প্রয়োজন হয় না। এসব ঘটনা আদালতের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি দুই পৃথক মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীসহ বেশ কয়েকজন বিভাগীয় সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন কলকাতা হাইকোর্ট। দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় দাঙ্গার পর উচ্ছেদ অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। উচ্ছেদ বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বেশ কিছু সময় অমান্য করে স্থানীয় পৌরসভা। এই ধরনের প্রবণতার প্রেক্ষাপটে গতকাল প্রধান বিচারপতির মন্তব্য সরকারের বিরুদ্ধাচরণেরই শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের নির্দেশ পালনে সরকারি নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গ উত্থাপন কার্যত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনারও শামিল। সরকারকে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় মামলাবাজ বলেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের মোট মামলার ৫০ শতাংশে সরকার একটা পক্ষ।

ভারতে সম্প্রতি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ার সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট একাধিক মামলা পত্রপাঠ খারিজ করার পাশাপাশি আদালতের সময় নষ্টের জন্য মামলাকারীদের জরিমানাও করেছেন। এই প্রবণতার সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলা ব্যক্তিস্বার্থের মামলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আদালত এই বিষয়ে ইদানীং খুবই সজাগ ও সতর্ক।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আদালতে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের ওপর জোর দেন। এ সময় মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপ্রাসঙ্গিক আইন চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত বাতিল করা দরকার

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন