বিএসএফের ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের সাবেক কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার এবং আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে ঠিক এক বছর আগে চার্জশিট দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সেই চার্জশিটে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলায় দায়িত্বে থাকার সময় সতীশ কুমার একটি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, যারা গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই ছয়জনের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন মহম্মদ এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি। চার্জশিটে সতীশ কুমারের পরিবারের সদস্যদের নামও ছিল। এই মামলার জেরে সিবিআই তাঁকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু তিনি ডিসেম্বরে জামিন পেয়ে যান। সিবিআইয়ের সেই মামলার জেরেই এখন সতীশ কুমারকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হলো।

এনামুল হকের সঙ্গে মনোজ সানা কাজ করতেন। গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এনামুলকে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সতীশ কুমারকে আজ রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে। এনামুল হককে জেরা করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এনামুল হকের বিরুদ্ধে বেআইনি কয়লা ব্যবসা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। কয়লা মামলায় এনামুল হককে ২০১৮ সালেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে তিনি জামিন পেয়ে যান।

কয়লা মামলার প্রসঙ্গে ইডি আগেই জানিয়েছিল, বিনয় এবং বিবেক মিশ্র নামের দুই ভাই ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এনামুল হকের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ পেয়েছিলেন। এই অর্থ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে গরু পাচারের জন্য এনামুল হক মিশ্র ভাইদের (বিনয় ও বিবেক) দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

বিনয় মিশ্র যুব তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যমে জানানো হয়েছিল।

বিনয় মিশ্র বর্তমানে তৃণমূলের সঙ্গে নেই। কিন্তু তাঁর কয়লা পাচারের মামলা সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে। এই মামলা ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে। ভবিষ্যতে এই মামলা অভিষেকের চিন্তার কারণ হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এক বছর ধরে বারবারই অভিযোগ করেছেন, অভিষেকের সঙ্গে গরু, কয়লা এবং বালু চোরাচালান চক্রের যোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কিছুই আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এনামুল হক বর্তমানে ইডির হেফাজতে রয়েছেন।

বিষয়গুলো নিয়ে নানান মামলা চলাকালে সতীশ কুমারের গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি সূত্র জানাচ্ছে, বিএসএফ ও কাস্টমস এবং স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের একটা বড় অংশ কয়লা কেলেঙ্কারি এবং গরু চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। আশা করা হচ্ছে, সতীশ কুমার ও এনামুল হককে জেরা করে দ্রুত এই সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করবে তদন্তকারী সংস্থা।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন