default-image

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দৈনিক হারের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

দৈনিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ১৬৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দৈনিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ১৬৩টি নতুন কেস পাওয়া গেছে। ভারতের সংক্রমণ মোট ৮৮ লাখ ৭৪ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দৈনিক সংক্রমণের হার ভারতে কমছে। সংক্রমণের ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয়রা দীপাবলি উদযাপন করছেন। হিন্দুদের এ উত্সব উদযাপন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উত্সব মৌসুমে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বেড়ে যেতে পারে। তবে দৈনিক সংক্রমণের হারে বিশেষজ্ঞদের এ উদ্বেগ দেখা যায়নি।

হয়তো সংক্রমণ কমানোর জন্য সরকার ঘোষিত নিয়মগুলো মানুষ মেনেছে বলেই সংক্রমণের হার ভারতে কমতে শুরু করেছে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯-এ ৪৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মোট মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫১৯ জনে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের দৈনিক হার পাঁচ লাখের নিচে নেমে এসেছে। টানা ছয় সপ্তাহ পর দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা কমেছে ভারতে।

গতকাল সোমবার দেশটিতে ৩০ হাজার ৫৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের সংখ্যায় এ হার সবচেয়ে কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে গত আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দৈনিক সংক্রমণের হার রেখাচিত্র দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির পর সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে ভারতে।

default-image

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এক দিনের সর্বোচ্চ হার ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। এদিন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন ৯৭ হাজার ৯৮৪ জন। এরপর থেকে অবশ্য সংক্রমণের হার ভারতে কমতে শুরু করে। করোনা শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকার ফলে গতকাল দেশটিতে সবচেয়ে কম লোকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন ৩০ হাজার ৫৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ওই দিন ৪৩ হাজার ৮৫১ জন সুস্থ হয়েছেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখ ছাড়াল। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যমতে, আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৬। একই সময়ে বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৩ লাখ ৩২ হাজার ১৩৩ জন। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯১ হাজার ১১৪ জন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫১ জন।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৮ লাখ ৭৪ হাজার ১৭২। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৫৯ জন। ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪০। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ জন। তালিকায় ফ্রান্সের অবস্থান চতুর্থ। রাশিয়া পঞ্চম। স্পেন ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্য সপ্তম। আর্জেন্টিনা অষ্টম। ইতালি নবম। কলম্বিয়া দশম। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৪তম।

তবে করোনা নিয়ে কিছু আশার কথাও আছে। মডার্না ইনকরপোরেশন, ফাইজার ও বায়োএনটেক তাদের টিকার কার্যকারিতার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি মডার্না ইনকরপোরেশনের দাবি, তাদের তৈরি টিকা করোনা ঠেকাতে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর। তৃতীয় পর্যায়ের ফলের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে গতকাল এমন দাবি করেছে মডার্না।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শিগগিরই তারা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে, যাতে এই টিকা জরুরি চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে ফাইজার ও বায়োএনটেক নামের দুটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর।

মন্তব্য পড়ুন 0