পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবা

চিকিৎসায় অনিয়ম ঠেকাতে স্বাস্থ্য কমিশনের কাজ শুরু

বিজ্ঞাপন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত স্বাস্থ্য কমিশন কাজ শুরু করেছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের রোগী পরিষেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষের যথেচ্ছাচার, অনিয়মসহ যাবতীয় সমস্যার নিরসন করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ সদস্যের স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেন।
কমিশনের প্রধান করা হয়েছে বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে। উপপ্রধান সচিব অনিল ভার্মা। গত রোববার এই কমিশন কাজ শুরু করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়ে ৩ মার্চ রাজ্য বিধানসভায় স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে পাস করিয়ে নেন নতুন একটি আইন। আইনটির শিরোনাম ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিস্টমেন্ট (রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি) অ্যাক্ট, ২০১৭’।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা গত ২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতাসহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে জানিয়ে দেন, চিকিৎসায় স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চিকিৎসাকে নিয়ে যেতে হবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে তিনি আর কোনো অভিযোগ শুনতে চান না।
পাস হওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক আইনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল এবং ডাক্তারকে মানবিক হতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট প্যাকেজ রাখতে হবে। এই প্যাকেজের বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসার খরচও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। রোগীদের দিতে হবে ই-প্রেসক্রিপশন। চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে রোগীদের আগেই জানাতে হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, চিকিৎসায় গাফিলতি প্রমাণিত হলে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত রোগীকে তিন লাখ, গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত রোগীকে পাঁচ লাখ এবং গাফিলতিতে মৃত্যু হলে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো দ্রুত ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করতে বাধ্য থাকবে। এর জন্য আগাম কোনো অর্থ দাবি করতে পারবে না। প্রয়োজনে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। বিধানে আরও বলা হয়, বিলের জন্য কোনো মৃতদেহ আটকে রাখা যাবে না। ‘ইমার্জেন্সি’ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফেরানো যাবে না। এর অন্যথা হলে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে। এমনকি হাসপাতালের লাইসেন্সও বাতিল করা যাবে।
১৬ মার্চ রাজ্যপাল পাস হওয়া স্বাস্থ্য বিলে সই করায় তা আইনে পরিণত হয়। পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী ১১ সদস্যের স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেন। কমিশনের প্রধান বিচারপতি অসীম কুমার রায় আর পাঁচ মাস পর অবসর নেবেন। তাঁর অবসর গ্রহণের পর কমিশনের দায়িত্ব নেবেন উপপ্রধান অনিল ভার্মা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন