default-image

কয়েক মাস ধরেই নিজ বাড়িতে ‘গৃহবন্দী’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ (৮৩)। এবার কঠিন এক আইনে অভিযুক্ত করে তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি’র অভিযোগে ‘পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের’ আওতায় তাঁকে আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সোমবার কঠিন এই আইনের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ফারুক আবদুল্লাহকে। এই আইনে আটক ব্যক্তিকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখার বিধানও আছে।

যে অভিযোগ এনে ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করা হয়েছে, তাতে কমপক্ষে তিন মাস বন্দী থাকতে হবে এই রাজনীতিবিদকে। অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরে শ্রীনগরে গৃহবন্দী ছিলেন তিনি। এর আগে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা রদ করার পর ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকেও আটক করা হয়।

এর আগে গত ৬ আগস্ট লোকসভায় ফারুক আবদুল্লাহর অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চান ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা সুপ্রিয়া সুলে। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘তাঁকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার—কোনোটাই করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের বাসায় আছেন।’

এই মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দেওয়ার কথা আছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সভার আগে যেন গণমাধ্যমের সামনে এসে সরকারের কোনো সমালোচনা না করতে পারেন, সে কারণেই ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করা হলো।

এই প্রথম ভারতে কোনো খ্যাতনামা রাজনীতিবিদকে পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের আওতায় আটক করা হলো। এর আগে সন্ত্রাসী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আটক করার জন্য এই আইন ব্যবহার হতে দেখা গেছে। কাকতালীয় বিষয় হলো, ফারুক আবদুল্লাহর বাবা শেখ আবদুল্লাহই ১৯৭৮ সালে কাঠ চোরাচালান বন্ধে এই আইনের প্রবর্তন করেছিলেন।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ফারুক আবদুল্লাহ তিন মেয়াদে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮০ সালের নির্বাচনের জম্মু-কাশ্মীর থেকে প্রথমবারের মতো লোকসভা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন