বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপরাজ্যপাল জানান, যেভাবে সরকার এগোচ্ছে, তাতে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি রুপি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪৪ হাজার কোটি রুপির লগ্নির প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
উপরাজ্যপাল বলেছেন, আগামী দিনে শ্রীনগরেও এমন সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

কেন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধিতায় নেমেছে উপত্যকার সব রাজনৈতিক দল। বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিশন এর আগে প্রস্তাব দিয়েছিল, জম্মুতে ছয় ও উপত্যকায় একটি আসন বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে জম্মুর মোট আসন দাঁড়াবে ৪৩, উপত্যকায় ৪৭।

এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে পঞ্চদলীয় জোট গুপকর অ্যালায়েন্স, পিপলস কনফারেন্স, পিপলস মুভমেন্ট এমনকি বিজেপি অনুগত দল আপনি পার্টিও। এবার আবাসন সম্মেলনের বিরুদ্ধেও এককাট্টা হয়েছে সবাই। তারা জোরালোভাবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা শুরু করেছে। হুরিয়ত কনফারেন্স আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। হুরিয়ত নেতা মীরওয়াইজ উমের ফারুক এক বিবৃতি জারি করে বলেছেন, একের পর এক অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিমপ্রধান জম্মু-কাশ্মীরের জনবিন্যাসে বদল ঘটাতে চাইছে। শাসক দল তার নির্বাচনী সাফল্যের জন্য জম্মু-কাশ্মীরকে ব্যবহার করছে।

উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সরকারি উদ্যোগের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। প্রত্যেকে মনে করছে, এভাবে জনবিন্যাসে বদল ঘটিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের এত দশকের চরিত্র বদলে বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল ক্ষমতাসীন হবে। সেই লক্ষ্যে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল। বাতিল ৩৫(ক) ধারা। অভিবাসী নীতিরও বদল ঘটানো হয়েছে সেই উদ্দেশ্যে। নতুন আইন অনুযায়ী, দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ এখন জম্মু-কাশ্মীরে জমি কিনতে পারেন, বসবাস করতে পারেন, চাকরি পেতে পারেন। আবাসন সম্মেলনে উপরাজ্যপাল নিজেই এসব বদলের কথা জানিয়ে বলেছেন, এভাবে জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন হবে, বিকাশ ঘটবে, জীবনযাত্রায় উন্নতি ঘটবে।

কেন্দ্রীয় এই যুক্তি মানতে প্রস্তুত নন উপত্যকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতারা। ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে বিক্রি করে দিতে চলেছে। জম্মুবাসীকে সাবধান করে তিনি বলেছেন, উপত্যকার আগে বিক্রি হবে জম্মুর জমি। নিজেদের বাঁচাতে প্রস্তুত হও। পিডিপি নেত্রী ও আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই উদ্যোগকে সরাসরি ‘লুট’ বলেছেন। তিনি বলেন, আবাসন সম্মেলনের নামে শুরু হচ্ছে জমি লুট। লুট হতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীরের এতকালের স্বতন্ত্র পরিচয়। এভাবেই দেশের একমাত্র মুসলিমপ্রধান রাজ্যকে শেষ করে দিতে সরকার কদম কদম এগোচ্ছে। জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটিয়ে সম্পদ লুট করাই এই সম্মেলনের একমাত্র উদ্দেশ্য।

গুপকর জোটের শরিক সিপিএম বিবৃতি জারি করে বলেছে, জমির চরিত্র বদলানো হয়েছে। চাষের জমিও বিক্রির বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আঞ্চলিক কৃষকদের জমি কেড়ে তাদের শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বদলানোর চেষ্টা চলছে আঞ্চলিক পরিচিতি।

রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর উপত্যকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার জন্য বিজেপির গরজে জন্ম হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর আপনি পার্টির। পিডিপির একসময়ের শীর্ষ নেতা আলতাফ বুখারিকে করা হয় আপনি পার্টির নেতা। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জেলা উন্নয়ন পর্ষদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা শ্রীনগর উন্নয়ন পর্ষদের দখলও নিয়েছে। এই আপনি পার্টিও বিরোধিতায় নেমেছে কেন্দ্রীয় উদ্যোগের। আলতাফ বুখারি বলেছেন, ‘আমরা উন্নয়নের পক্ষে, কিন্তু আবাসিক আইন ও নিজস্বতা বিলিয়ে দিয়ে নয়। জম্মু-কাশ্মীরের জমি ও চাকরির ওপর অঞ্চলের মানুষের অধিকারের সঙ্গে দল কিছুতেই আপস করতে পারবে না। এমন ধরনের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতায় দল প্রস্তুত।’

অনুচুক্তি সই হওয়ার অর্থ এই নয় যে ১৮ হাজার ৩০০ কোটি রুপির প্রকল্প বাস্তবায়িত হবেই। বহু অনুচুক্তি দিনের আলো দেখে না। সম্প্রতি শেষ হওয়া সংসদের অধিবেশনে সরকার জানিয়েছে, রাজ্য দ্বিখণ্ডিতকরণ ও বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর এ পর্যন্ত মাত্র সাতটি জমি বিক্রি হয়েছে। শিল্প সম্মেলন ডেকেও সরকার বাতিল করে দিতে বাধ্য হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় (কাশ্মীরি পণ্ডিত) উপত্যকায় ফিরে যায়নি। ২০০৯ সালে কংগ্রেসও উদ্যোগী হয়ে দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের কাশ্মীর নিয়ে গিয়েছিল। সেই দলে রতন টাটাও ছিলেন। কিন্তু কেউই অশান্ত ও অনিশ্চিত উপত্যকায় লগ্নিতে সাহসী হননি। উপত্যকায় সর্বাত্মক বিরোধিতা প্রবল হলে আবাসন সম্মেলনও কি সফল হবে? প্রশ্নটা থাকছেই।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন